• আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিষ্ক্রিয়, অছাত্র এবং বিবাহিতদের দিয়ে খুড়িয়ে চলছে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগ

১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, মে ১৩, ২০১৯ খুলনা
Jhinaidha

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঝিনাইদহ জেলা শাখার প্রতিটি ইউনিট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবত কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ক্ষোভ এবং হতাশায় অনেক ত্যাগী কর্মী রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। এদিকে সংগঠনের কোন কর্মসূচী না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক নেতা বিবাহ করে ব্যবসা বাণিজ্যে মনোনিবেশ করেছেন।

একাধিক সূত্রে জানা যায় সর্বশেষ ২০১১ সালে খায়রুল ইসলাম কে সভাপতি এবং বিশ্বজিৎ সাহা মিথুন কে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এরপর ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহম্মেদ কে সভাপতি এবং রানা হামিদ কে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। একই সাথে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক করে এবং ঝিনাইদহ সদর পৌর কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক করে এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলা কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে যান তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলম।

এরপর জেলা ছাত্রলীগের একটি কমিটিও আর পূর্ণাঙ্গ হয়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগের দিন ৯ এপ্রিল তড়িঘড়ি করে রানা হামিদ কে সভাপতি এবং আব্দুল আওয়াল কে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট ১ বছর মেয়াদী পকেট কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন। এই কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে। তবু আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ হয়নি জেলা ছাত্রলীগের কমিটি।

ঝিনাইদহের ছাত্র রাজনীতির আতুর ঘর হিসেবে পরিচিত এবং ঝিনাইদহের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি কে.সি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক করে অনুমোদিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৭ জুলাই। এই কমিটির সভাপতি রেজোওয়ানুল হক রিপন কমিটি অনুমোদিত হওয়ার এক মাসের মাথায় নিজের ছাত্রত্ব সমাপ্ত করেন। অছাত্র অবস্থায় তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত সভাপতির পদে আছেন। এটা নিয়ে রেগুলার ছাত্রনেতাদের ভিতর চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমনকি এই কমিটি আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। সরকারি কে.সি কলেজের অনেক ত্যাগী ছাত্রলীগ কর্মী ক্ষোভে এবং হতাশায় স্বেচ্ছায় ছাত্রত্ব সমাপ্ত করে চাকরী ও ব্যবসায় বাণিজ্যে মনোনিবেশ করেছে। ছাত্র রাজনীতির আরেকটি দূর্গ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কমিটি গ্রুপিং, লবিং এর রেষারেষিতে আজ দুবছর যাবত স্থগিত করে রেখেছে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগ। এই কমিটিও আজ চার বছর যাবত পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ঝিনাইদহ ছাত্র রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সিটি কলেজ কমিটি ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত হয়েছিল। এই কমিটির সভাপতি এখন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতো গুলো বছরেও এই ইউনিটও পূর্ণাঙ্গ হয়নি।  ঝিনাইদহ সদর পৌর কমিটিও ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বরের পর থেকে আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ছাড়াও ঝিনাইদহের বাকী পাঁচটি উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি সম্পর্কে জানা যায়, ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ২০১৪ সালে ৫নং সিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার মোঃ ইসরাইল হোসেন কে সভাপতি এবং কাজী রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। একজন ইউপি মেম্বারকে সভাপতি ঘোষণা করায় তুমুল বিতর্কে পড়ে এই কমিটি। তবুও তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আনিচুর রহমান (মিঠু মালিতা) কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণা করেন তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, শাকিল-রানা। একাধিক সূত্রে জানা যায় মিঠু মালিতা বিবাহিত এবং অছাত্র। সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম সাল ১৭-০৪-১৯৮৪।

কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আরেকটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে পরিচিত মাহাতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ এর কমিটি সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে আব্দুল কুদ্দুস কে সভাপতি এবং শেখ আখতারুল হক সাগর কে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয়। এরপর অদ্যবধি আর কোন কমিটি হয়নি। ২০০৯ সালে সর্বশেষ কালীগঞ্জ পৌর কমিটি ঘোষিত হয়েছিল বলে জানা যায়।

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৩ই মে সর্বশেষ মহেশপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক নেতা ছাত্র জীবন শেষ করে বিবাহিত জীবনযাপন করছে বলে নিশ্চিত করেন সংগঠনের একাংশ।

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর কেন্দ্র ঘোষিত কমিটি ২০১৭ সালের ২০ জুলাই বিলুপ্ত করে বিবাহিত এবং অছাত্র রিগানকে আহবায়ক এবং বিদেশ ফেরত শ্রমিক অছাত্র রুবেল রানা কে যুগ্ম-আহবায়ক করে তিন মাসের জন্য আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে তৎকালীন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক শাকিল-রানা। এই কমিটি আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের অধীনস্ত যেসব ইউনিট আজও পূর্ণাঙ্গ হয়নি তা হলো- হরিণাকুন্ডু পৌরসভা, লালনশাহ্ কলেজ, মহেশপুর পৌরসভা, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ঝিনাইদহ ভেটেরিনারী কলেজ, আইএইচটি, এটিআই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা বলেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হোক এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক কখনও আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন না। কেননা তারা মনে করেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগ কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে একাধিক কর্মী পদ-পদবী পাবে এবং তারা সংগঠনের নানা বিষয়ে স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারে। এই স্বাধীন মত প্রকাশের ব্যাপারে আতঙ্কিত হয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গের ব্যাপারে তারা অনাগ্রহী।

নিদিষ্ট সময় শেষ হলেও পর্ণাঙ্গ কমিটি কেন হয়নি জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, পুর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য কাজ করছি। অছাত্রদের নিয়ে সংগঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত কমিটিতে বিবাহিত ছিলেন কয়েকজন তবে বর্তমানে এমন কেউ নেই।