ভাইভা নেন ঊর্ধতন সেনা অফিসার, নি‌য়োগপত্র পাঠানো হত ডা‌কে!

৩:৫৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ১৩, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর :: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, কারারক্ষীসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরী দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রবিবার সন্ধ্যায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের হাতে আটক হওয়া প্রতারকরা হলেন- চক্রের মূল হোতা মানিক চাঁদ (২৮), মো. রতন হোসেন (১৮), মোঃ ইসমাইল হোসেন (৩১), এস এম আলাউদ্দিন আল মাহমুদ (৩৬) মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩২) সম্রাট মল্লিক (২৪)। গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় র‌্যাব।

সোমবার দুপু‌রে র‌্যা‌বের মি‌ডিয়া সেন্টা‌রে আ‌য়ো‌জিত এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক চৌধু‌রি মঞ্জুরুল ক‌বির তাদের প্রতারণার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।

চৌধু‌রি মঞ্জুরুল ক‌বির জানান, ঊর্ধতন সেনা অফিসার, ম্যা‌জি‌স্ট্রেট কিংবা সহকা‌রি স‌চিব ভাইভা নি‌তেন চাক‌রি প্রত্যাশী‌দের। এরপর চু‌ক্তি ম‌তো ১৫ থে‌কে ২০ লাখ টাকার সিংহভাগ শোধ করার ৩ বা ৪ দি‌নের ম‌ধ্যে নি‌য়োগপত্রও পাঠানো হয় ডাক যোগে; কিন্তু সেই নিয়োগপত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ কে‌ন্দ্রে বা চাক‌রি‌তে যোগদান কর‌তে গে‌লেই দেখা যেত সবই ভূয়া। এমনই ছিলো এই চক্রের প্রতারণা।

তিনি বলেন, এই চক্রটি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ঘুরে ঘুরে বেকার শিক্ষিত, চাকরি প্রত্যাশী যুবক এবং তার পরিবারকে সহজে সরকারি চাকুরিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তাদের পাতা ফাদেঁ পা বাড়ালে চক্রটি কয়েকটি কৌশলের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়।

তারা চাকরি প্রার্থীদের ‘বড় কর্মকর্তাদের’ সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থার নাম করে ঢাকায় নিয়ে এসে চাকরি দেওয়ার আগে তাদের আরোপ করা কয়েকটি শর্ত মানতে হবে বলে জানায়। তাদের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাংক চেক দেয়া, ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, স্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষর এবং চাকরি প্রত্যাশীর মূল সনদপত্র জমা রাখা। এই শর্তগুলো মানা হলেই আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক আরও বলেন, টাকা নেওয়ার পরে ভূয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে ভুয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে মেডিকেলে নিয়ে যায় এবং কৌশলে তাদের সেনানিবাসের আশেপাশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে নিয়ে আসে। সেনানিবাসের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে ভুয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতো।

এছাড়া এ প্রতারক চক্রটি নিজেদের সন্দেহের উর্ধ্বে রাখার জন্য গাড়ি ভাড়া করে তাতে সরকারি লোগো ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেত- এর ফলে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করতো তারা। প্রতারক চক্রের একজনকে প্রয়োজন মতো ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসার, সহকারী সচিব বা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেয়। পরিকল্পিতভাবে প্রার্থীকে চাকরিতে যোগদানের নির্ধারিত তারিখের ৩ থেকে ৪ দিন পূর্বে নিয়োগপত্র দেখিয়ে চুক্তি মোতাবেক টাকা আদায় করে নেয়। পরে নিয়োগপত্রটি ডাকের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানায়।

এরপরে ভুক্তভোগী প্রতারিত হয়ে তাদের কাছে এলে তারা নানাভাবে হয়রানি শুরু করে। আগে থেকে নিয়ে রাখা ব্ল্যাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহার শুরু করে। তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভুয়া মামলা দেয়ার ভয় দেখানো হয়। প্রতারণার শিকার কেউ অভিযোগ করলেই তারা উল্টো মামলার হয়রানির শিকার হতো।

তিনি জানান, আটক করার সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র, চাকরিপ্রার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার সিল, কম্পিউটার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর জাল নিয়োগপত্র, ভর্তি ফরম, বিভিন্ন বাহিনীর সরকারি চাকরির আবেদন ফরম, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রার্থীর থেকে নেয়া সার্টিফিকেটের ফটোকপি, বিভিন্ন প্রার্থীর ন্যাশনাল আইডি কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট কার্ড, নগদ ১৫ হাজার ৪শ ৮৩ টাকা। ভিজিটিং কার্ড ও ব্যাংকের পাঁচটি চেক বই।