সন্তানের জন্য ৪৪ বছর ধরে বারো মাস রোজা রাখছেন মা

৭:২৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ১৩, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক- ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের সখিরন নেছা (৭৫) দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখছেন। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ কয়েকটি দিন বাদে রোজা রেখে চলেছেন তিনি। তার বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম হারিয়ে যাবার পর, তিনি নিয়ত করেন ছেলেকে ফিরে পেলে, যতদিন বেঁচে থাকবেন রোজা রাখবেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর থেকে রোজা রেখে চলেছেন তিনি। তবে এখন বয়স বেড়েছে, জটিল এবং কঠিন রোগের কারণে আর কতদিন রোজা রাখতে পারবেন এ চিন্তা ভাবিয়ে তুলছে তাকে।

গ্রামবাসী জানায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপালপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী সখিরন নেছা ওরফে ভেজা। তার ৩ ছেলে এবং ৩ মেয়ে। ছেলে-মেয়েরা বিবাহিত। প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা সংসার রয়েছে। শহিদুল ইসলাম ছেলেদের মধ্যে বড়।

সখিরন নেছা বলেন, ১৯৭৫ সালে তাঁর বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম মাত্র ১১ বছর বয়সে হারিয়ে যান। ওই দিন সকালে ছেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। একসময় তিনি পাগলের মতো হয়ে যান। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, ছেলে বাড়ি ফিরলে আজীবন রোজা থাকবেন। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চার দিন পর ছেলে শহিদুল বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি রোজা রাখছেন।

সখিরন নেছা আরও বলেন, মনে মনে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হঠাৎ একদিন ছেলে বাড়িতে ফিরে মা বলে ডাক দেন। হারানো ছেলেকে বুকে পেয়ে শান্তি পান তিনি। এরপর থেকেই তাঁর রোজা রাখা। মা সখিরন নেছা বলেন, এই রোজা রাখতে তাঁর কোনো কষ্ট হয় না। তবে বর্তমানে বয়সের কারণে কিছুটা কষ্ট বেড়েছে। এরপরও তিনি মৃত্যুর পূর্ব দিন পর্যন্ত রোজা থাকতে চান।

সেই সন্তান শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জন্য মা কষ্ট করে রোজা রাখেন। নিষেধ করলেও তিনি শোনেন না। এই রোজা রাখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেই মা আমাকে ফিরে পেয়েছে।’

এলাকাবাসী জানান, অভাব অনটনের পাশাপাশি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন ভেজিরন নেছা। তারপরেও সন্তানের কল্যাণে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেননি তিনি।

বৃদ্ধা এই মা’কে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হয়েছে জানিয়ে, তাকে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ঝিনাইদহ মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহের সঙ্গে তুলনা হয়না কোন কিছুরই। পৃথিবীতে সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ, একমাত্র মা-ই করতে পারেন। মা কাকে বলে সখিরন নেছা তা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।