চার বছর পরে শিকলবন্দীদশা থেকে মুক্তি পেলেন এক বৃদ্ধা

১১:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ১৩, ২০১৯ বরিশাল
briddha

মো:নজরুল ইসলাম,ঝালকাঠি প্রতিনিধি- ঝালকাঠির রাজাপুরে দুই সন্তানের জননী সত্তরোর্ধ রিজিয়া বেগমকে ৪ বছর ধরে অমানবিক ভাবে শিকলবন্দী করে রেখেছিল তার স্বজনেরা। কোমড়ে লোহার শিকলে তালা দিয়ে বেধে রাখা হয়েছিল বেড়াহীন একটি জীর্ণ ঘরের খুটির সংগে। খেতে দেওয়া হতো মাত্র এক বেলা। পুষ্টিহীনতায় শীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে ফেলেছে মানসিক ভারসাম্য। অবশেষে স্থানীয় সংবাদকর্মিদের হস্তক্ষেপে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৃদ্ধাকে মুক্ত করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তর বারবাকপুর গ্রামের দুই সন্তানের জননী সত্তরোর্ধ রিজিয়া বেগমকে ৪ বছর ধরে অমানবিক ভাবে শিকলবন্দী করে রেখেছিল তার স্বজনেরা। এই চার বছর ধরে একটি নির্জন বাগানের মধ্যে সে বেড়াহীন টিনের ছাপরার নিচে একাকী জীবন কাটিয়েছে। সারাদিনে একবার দায়সারা ভাবে তাকে খেতে দেয়া হতো। পুস্টিহীনতায়, কঙ্কালসার বৃদ্ধা বন্দী জীবনের একাকীত্বে মানষিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেছে।

প্রতিবেশিরা জানান ২০ বছর পূর্বে তার স্বামী নিজাম উদ্দিন শেখ মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। তার এক ছেলে আব্দুর রাজ্জাক শেখ পেশায় কামাড় এবং মেয়ে সালমা বেগম গৃহিনী। ছেলে কামাড়ের কাজ করে ৪ সন্তানের পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। তার স্বজনরা দাবি করেছে বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় তাকে শিকলে বেধে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুদিন ধর্ণা দিয়েও কোন সাহায্য পাননি বলে তারা জানান।

স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাজাপুর উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধাকে মুক্ত করে হাসপাতালে আনার ব্যাবস্থা করেন এবং তার চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

রাজাপুর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎক জানান, সঠিক চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে বৃদ্ধাকে সুস্থ্য জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।