ফেসবুক থেকে উধাও জনপ্রিয় বাংলাদেশি গ্রুপ, তারকাদের আইডিও ডিজেবল

১২:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ১৫, ২০১৯ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক- হঠাৎ করেই ফেসবুকে বাংলাদেশিদের বেশ কিছু জনপ্রিয় গ্রুপ মুছে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা বিষয় নিয়ে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় এসব গ্রুপে কয়েক লাখেরও ওপরে ব্যবহারকারী রয়েছে।

১৩ মে গভীর রাতে হুট করেই এসব গ্রুপ ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গের দায় চাপিয়ে মুছে ফেলা হচ্ছে এবং গ্রুপের অ্যাডমিনদের ফেসবুক আইডি ডিস্যাবল (নিষ্ক্রিয়) করে দেওয়া হচ্ছে। কাজটি করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিজেই। এ তালিকায় রয়েছে ভ্রমণ বিষয়ক গ্রুপ, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কমিউনিটি গ্রুপ, খাবার বিষয়ক গ্রুপ, খেলা বিষয়ক গ্রুপ, বিনোদন বিষয়ক গ্রুপ ইত্যাদি।

এদিকে একই রাতে ফেসবুক গ্রুপ ও এডমিন আইডি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের তারকাদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার চার অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সঙ্গীতশিল্পী ইমরান, অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া ও পূজা চেরির ফেসবুক আইডি ডিজেবল দেখাচ্ছে।

ফেসবুকে তাদের আইডি পাওয়া যাচ্ছে না। আর মেহের আফরোজ শাওনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ইনস্টাগ্রাম হ্যাক করেছে হ্যাকারা।

অপূর্ব বলেন, সোমবার মাঝরাত থেকে আমার আইডিতে ঢুকতে পারছিনা। কারা যেন রিপোর্ট করে ডিজেবল করে দিয়েছে। বিষয়টা খুবই বিব্রতকর। এখন আমি আমার আইডি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ইমরান বলেন, রাত সাড়ে চারটার পর থেকে আইডিতে লগ ইন করতে পারছিনা। যারা এই কাজগুলা করছেন, তাদেরকে সাইবার ক্রাইমের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিত। এদের কারণে মানুষ কতটা বিভ্রান্তিতে পড়ে!

এদিকে অভিনেত্রী, নির্মাতা, গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন হ্যাকাররা। ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করতে না পারলেও ইনস্টাগ্রাম হ্যাক করতে সক্ষম হন তারা।

এরপরই মেহের আফরোজ শাওন তার ফেসবুকে একাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়ে সেই কথা জানিয়েছেন। ‘তড়িঘড়ি করে ফেসবুক বাঁচাতে পারলেও ইনস্টাগ্রাম একাউন্টটা বাঁচাতে পারলাম না’- ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন।

জানা যায়, ১৩ মে গভীর রাতে হঠাৎ করে ‘আপওয়ার্ক বাংলাদেশ’ নামের একটি কমিউনিটি গ্রুপের ৬ জন অ্যাডমিন এবং ৫ জন মডারেটর ফেসবুক থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই লগ-আউট হয়ে যান। বিষয়টি চেক করে পুনরায় লগ-ইন করতে গেলে বলা হয়, ফেসবুকের স্ট্যান্ডার্ড গাইডলাইন ভঙ্গ করায় আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এ সময়ে এ গ্রুপটির ৬ জন অ্যাডমিনের অ্যাকাউন্টও ডিস্যাবল করে দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে একজন আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) নিজের তথ্যাদি দিয়ে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন এ গ্রুপের মডারেটর মোহাম্মদ আসিফ।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাতে কমিউনিটির নানা বিষয় নিয়ে চ্যাট করছিলাম। হঠাৎ করেই আমাদের অ্যাকাউন্ট লগ-আউট হয়ে গেলে আমরা পুনরায় লগ-ইন করতে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পাই।’

ছয় অ্যাডমিনের অ্যাকাউন্ট ডিস্যাবল হয়ে গেলেও মডারেটরদের সমস্যা হয়নি বলেও জানান তিনি। এ গ্রুপে সদস্য সংখ্যা ছিলেন প্রায় দেড় লাখ। গ্রুপ এবং অ্যাডমিনদের অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করার জন্য তারা ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এ গ্রুপ ছাড়াও একই সময়ে উধাও হয়ে যায় দেশের অন্যতম বড় গ্রুপ ‘সার্চ ইংলিশ’। এ গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ১৫ হাজার।

এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের শীর্ষ ফেসবুক গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে এভারগ্রীন বাংলাদশ, বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস,  আওয়ার এভারগ্রীন বাংলাদেশ, ভাইরাল গ্রুপ বাংলাদেশ, ভয়েস অব রাইটস, প্রবাসী বাংলাদেশ, সোনার বাংলা, সবুজ শাড়ি লাল টিপ, ছেলে ভিএস মেয়ে, আমাদের খুলনা- ওয়ার্ল্ড ইন বাংলাদেশ, উই আর বাংলাদেশ, ক্রিকেটখোরসহ আরও অসংখ্য ফেসবুক গ্রুপ।

ফেসবুকের এসব গ্রুপগুলো বন্ধ হওয়ার বিষয়ে হ্যাকার গ্রুপ ডন্স টিমের বিভাগীয় প্রধান এইচ আর সোহাগ বলেন, ফেসবুক প্রতিনিয়তই তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে। তবে বর্তমানে ফেসবুক আরও কিছু নীতিমালা যোগ করেছে সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে।‘

যে কারণে কোনো বড় নামধারী টেরোরিস্টের ছবি গ্রুপে বা একাউন্টে আপলোড করা মাত্রই পার্মানেন্টভাবে নিস্ক্রিয় করে দেয়া হচ্ছে সেসব ফেসবুক গ্রুপ ও একাউন্ট।’ আর নিস্ক্রিয় গ্রুপ ও একাউন্টগুলো পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা একেবারেই নগন্য বলে উল্লেখ করেন সোহাগ।

এটাকে সাময়িক ত্রুটি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুব শিগগির তা সংশোধন করা হতে পারে। যদিও এই ব্যাপারে ফেসবুক এখনো কিছু জানায়নি। তবে ফেসবুক কমিউনিটির এই নীতিমালাকে অসাধু কিছু চক্র ক্ষতির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। যে কারণে তারা অনেক বড় ও জনপ্রিয় গ্রুপগুলো নিস্ক্রিয় করে দিচ্ছে।

ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন ধরে এখন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অনেক সরকারি, বেসরকারি বা বাণিজ্যিক গ্রুপ। এখন আশঙ্কামুক্ত নয় কোন গ্রুপই। ফেসবুকের কমিউনিটি নীতিমালা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এই আশঙ্কা সব গ্রুপ এডমিনদের জন্যই থাকছে।