• আজ ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোগীর কাগজপত্রসহ ডেকে এনে গৃহবধূকে জাপটে ধরলেন চিকিৎসক!

১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০১৯ আলোচিত

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে চিকিৎসকের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ (২২)। তার বাড়ি উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামে।

মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই গৃহবধূর সন্তানকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রোগির স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে লাঞ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ওই গৃহবধূ তার ১১ মাস বয়সী অসুস্থ্য কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন এবং ডাক্তার আবদুর রউফের অধিনে তাকে ভর্তি করা হয়। (ভতির্র রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৭৪৮/৭)। সন্ধ্যার দিকে ডাক্তার আবদুর রউফ ওই গৃহবধূকে মোবাইল ফোনে কল করে হাসপাতাল কোয়ার্টারের তার চেম্বারে দেখা করতে বলেন।

এরপর রাত ৮টার সময় ওই গৃহবধূ তার খালাকে সাথে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে যান। গৃহবধূর সাথে তার খলাকে দেখে ডাক্তার রাগান্বিত হয়ে উঠেন এবং তাকে পুনরায় হাসপাতালে গিয়ে ভর্তির কাগজপত্রসহ একা আসতে বলেন। প্রায় ১০ মিনিট পর ওই গৃহবধূ ডাক্তারের চেম্বারে যান। তখন চেম্বারে তিনি ছাড়া অন্য কেউ ছিলেননা। এই সুযোগে ডাক্তার আবদুর রউফ তাকে কুপ্রস্তাব দেন। ওই সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ডাক্তার রউফ তাকে জাপটে ধরেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। ডাক্তার ও গৃহবধূর ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গৃহবধু চেম্বার থেকে বের হয়ে তার এক মামাকে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানালে মামা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ডাক্তার রউফকে লাঞ্চিত করেন।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকসহ ২০-২৫জন লোক ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ওই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পটুয়াখালী সিভিল সার্জন এবং বাউফলের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করেন। ঘটনার পর বুধবার হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধূর সন্তানকে পটুয়াখালী জেনালের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ডাক্তার আবদুর রউফ বাউফল হাসপাতালে এর আগেও চাকুরী করেছেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেংকারির অভিযোগ উঠেছিল। কয়েক মাস আগেও তিনি এক তরুনীর সাথে অপকর্ম করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লে বাধ্য হয়ে তাকে বিয়ে করেন এবং এক মাস পর তার সাথে সম্পর্ক ছেদ করেন। চারিত্রিক সমস্যার কারণে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দেন। এরপর ডাক্তার আবদুর রউফ দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বাউফল হাসপাতালের কোয়ার্টারে তিনি একা থাকেন। আর এই সুযোগে তিনি অনৈতিক কাজ করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ডাঃ আবদুর রউফ বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। তার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে একটি মহল এ অপপ্রচার চালিয়েছে। আমি রোগির অবস্থা জানার জন্য রোগির মাকে ফোন করেছিলাম।

বাউফল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ঘটনাটি আমাকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। কোন লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে ডাক্তারদের নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।