• আজ ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রভাষককে মারধরের ঘটনায় তোলপাড়, নিন্দার ঝড়

১১:২৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, পাবনা- উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নকলে বাধা দেয়ায় পাবনায় এক কলেজ শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিক্ষকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, মারধরের ঘটনায় জড়িতরা সংগঠনের কেউ না।

পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ৩৬তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডার মো. মাসুদুর রহমানকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে অপদস্থ করা হয়। ঘটনাটি গত ১২ মে ঘটলেও কলেজের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে মঙ্গলবার রাতে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কলেজ গেট থেকে মোটরসাইকেলে করে বের হওয়ার সময় কয়েকজন যুবক এসে অতর্কিত হামলা চালায় শিক্ষক মাসুদুর রাহমানের উপর। তাকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়। ফেলে দেয়া হয় মাথার পাগড়িও। একপর্যায়ে তিনি বেরিয়ে যেতে চাইলে পেছন থেকে এসে তাকে ফের লাথি মারেন এক যুবক। অবশ্য দুএকজনকে এসময় দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।

ভিডিওটি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। একজন শিক্ষককে এভাবে অপদস্ত করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তারা।

ঘটনার শিকার শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গত ৬ মে এইচএসসি পরীক্ষায় সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী নকল করছিল। এ জন্য আমি দুই ছাত্রীর খাতা নিয়ে নেই। এর পর থেকে ওই দুই ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাত্র আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছে।’

ওই শিক্ষক বলেন, ‘গত ১২ মে দুপুরে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে কিল-ঘুষি মারে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় আমার মাথার পাগড়ি খুলে পড়ে। এ ছাড়া পেছন থেকে সজোরে লাত্থি মারে। সেসময় আমাকে বলা হয়; তুই আর কলেজে আসবি না কলেজে আসলে তোর হাত কেটে নেবো। বাংলা বিভাগে আগুন ধরিয়ে দেবো। এরপর আমার সিনিয়র শিক্ষকরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং আমাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন। এরপর থেকে আমার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমাকে কিছুদিনের জন্য কলেজে যেতে মানা করেছেন শিক্ষকরা।’

এদিকে এই ঘটনাকে চাপা দিতেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তবে এই অভিযোগকে বানোয়াট বলছেন শিক্ষকরা।

অন্যদিকে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কোন ব্যবস্থা না নিলেও বানোয়াট অভিযোগের তদন্তে কমিটি করেছে কলেজ প্রশাসন। এ নিয়ে শিক্ষকদের চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি শহিদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় তিনি নিজেই অনুতপ্ত। বহিরাগতা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সময় আমি উপস্থিত হয়ে শিক্ষককে রক্ষা করি এবং আমার উপস্থিতি টের পয়ে বহিরাগতরা পালিয়ে যায়।’

তবে তিনি দাবি করেন, ‘তিনি বা ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়।’এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছে এ বিষয়ে আমরা জরুরি সভা করেছি এবং আমাদের দাবি হলো যারা আমাদের শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে আমরা তার বিচার চাই।

তিনি বলেন, তাদের কলেজসহ সারাদেশের সকল কলেজ সন্ত্রাসমুক্ত হবে, বহিরাগত মুক্ত হবে এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আব্দুল কুদ্দুস বলেন, একটি মেয়ের অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়ে তদন্ত টিম করে দেয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কেউ অনৈতিক সুবিধা না পেলে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেন-এটি নতুন নয়। এ ঘটনা শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক।