চিকিৎসক সংকটে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল নিজেই এখন রোগী!

১২:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

আশিক বিন রহিম, চাঁদপুর প্রতিনিধি- গাইনী বিভাগসহ চিকিৎসক সঙ্কট, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও অনুন্নত খাবার, দালাল চক্রের দাপটসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল নিজেই যেনো রোগী হতে চলেছে।

অথচ আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালটি চাঁদপুর জেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তি শরীয়তপুর, ফেনী, নোয়াখালি জেলার গরীব-অসহায় রোগীরাও কম খরচে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। যার কারণে সরকারি চিকিৎসার এই প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুর ছাড়াও ৩ জেলারবাসীর কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

অথচ বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান থেকে চাহিদামতো সেবা না পেয়ে, উল্টো নানানভাবে বিড়ম্ভবনার শিকার হচ্ছে রুগীরা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগীয়ে লাভবান হচ্ছে হাসপাতালে অবস্থান নেয়া প্রাইভেট হাসপাতালের শক্তিশালি দালাল চক্র।

হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল আজীম জানান, হাসপাতালে ৬৫জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলেও ১৯টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে গাইনী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট, অর্থবেটিক, এ্যানেসথেনিয়া, মেডিক্যাল অফিসার, ইমাজেন্সির বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইত্যাদি পদ। বর্তমানে ৪৬জন চিকিকিৎসকের নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এসব শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

৪ মাস ধরে গাইনী বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার বিষয়ে তিনি জানান, গাইনী বিভাগে সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ফাতেমা বেগম চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অবসর জনিত পিআরএল ছুটিতে রয়েছেন। আর জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) তাবেন্দা আক্তার ৮ ডিসেম্বর থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। বর্তমানে সহকারী রেজিষ্টার হিসেবে নুসরাত জাহান ও মেডিকেল অফিসার হিসেবে রওসাবা নাসরীন পারভীন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। এই বিভাগের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তার নিয়োগ চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে দিয়েছি।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুগীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, জেলার সর্বোচ্চ এই হাসপাতালে নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। তাছাড়া রুগীদের মানসম্মত খাবার দেয়া হচ্ছে না। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চিকিৎসকরা হাসপাতালে রুগী দেখার চেয়ে প্রাইভেটে রুগী দেখতে পছন্দ করেন। এ জন্যে অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে আসা রুগীদের ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে তাদের চেম্বারের যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এদিকে দীর্ঘ ৪মাস ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ছাড়াই চলছে হাসপাতালের গাইনী বিভাগের কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগে কর্মরত সিনিয়র এবং জুনিয় কনসালটেন্ট (গাইনী) না থাকায় ডেলিভারী, চেকআপ, রেপ কেইস, পিএনসি, এএনসি’র মত বিভিন্ন রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা পড়ছেন মারাত্মক দূর্ভোগে। এ অবস্থায় অতিগুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটির সমস্যা সমাধানে কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছে ভুক্তভোগী মহল।