‘বঙ্গোপসাগর আমাদের জন্য স্বর্ণের ডিম পাড়া হাঁস’- খসরু

১০:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০১৯ চট্টগ্রাম
khosru

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ২০ মে থেকে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, বঙ্গোপসাগর আমাদের জন্য রূপকথার সেই স্বর্ণের ডিম পাড়া হাঁস। বিরতি না দিয়ে সারা বছর যদি আমরা এখানে মাছ আহরণ করি, তাহলে মাছ আর থাকবে না। সব মাছ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মৎস্য অধিদফতরের অনুসন্ধানী জাহাজ নিয়ে আমরা বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান চালিয়েছি। সেখানে দেখা গেছে, মাছের সংখ্যা বঙ্গোপসাগরে এখন অনেক কমে এসেছে। এ অবস্থায় নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত মাছ আহরণ চলতে থাকলে বেশি দিন লাগবে না- কয়েক বছরের মধ্যেই বঙ্গোপসাগর মাছ শুন্য হয়ে যাবে। তখন ৬৫ দিন মাছ আহরণ বন্ধ রাখলে যে কষ্ট পাবেন, তা ৬৫ বছরেও লাঘব হবে না।

আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘প্রজনন সময়ে মা মাছ যদি ডিম ছাড়তে না পারে, মা মাছ আহরণ করা হয়- তাহলে মাছ বৃদ্ধি পাবে না। আমাদের অসাবধানতার কারণে ইতোমধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক গুলো যাওয়ার পথে। প্লিজ, বঙ্গোপসাগরকে মাছ শুন্য করবেন না। একটু কষ্ট হলেও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা করুন।’

আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, আমি হাওর অঞ্চলের মানুষ। ৫০-৬০ বছর আগেও আমাদের গ্রামে গরুর গাড়ি নিয়ে মাছ আনতে হতো। কিন্ত অতিরিক্ত আহরণের কারণে হাওরে এখন মাছ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগের ১০০ ভাগের বিপরীতে এখন ১০ ভাগ পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছু দিনের মধ্যেই উপকূলীয় এলাকার মানুষ বেকার হয়ে যাবে।

মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জেলেদের যাতে কষ্ট না হয়, এজন্য আমরা বৃহৎ কর্মসূচি নিয়েছি। আগামী বছর থেকে জেলেদের শুধু মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে না। জেলেদের আমরা ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন উপকরণ দেবো। জালের উপর, মাছের উপর যাতে তাদের নির্ভরতা কমে আসে। তারা যাতে মাছ ধরার পাশাপাশি অন্যভাবেও সংসার চলাতে পারে। যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম মণ্ডলের সভাপতিত্বে সভায় জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের অধ্যাপক সাইদুর রহমান, নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতি, জলদাস সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমিতির প্রধানরা অংশ নেন।