দেশদ্রোহী হিসেবে আমি গর্বিত : মেহবুবা মুফতি

১২:৩১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নিজেকে গর্বিত দেশদ্রোহী বলে দাবি করলেন ভারতের পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি। ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরণের মন্তব্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বিতর্কের সূত্রপাত, কংগ্রেস নেতা কমল হাসানের মন্তব্য থেকে। দিন কয়েক আগে তিনি বলেন, ‘নাথুরাম গডসে স্বাধীন ভারতের প্রথম হিন্দু জঙ্গি।’ সেই বিষয়ে বৃহস্পতিবার ভোপালের বিজেপি প্রার্থি সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, ‘নাথুরাম গডসে একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিক। বরাবরই তিনি দেশপ্রেমী ছিলেন ও ভবিষত্যেও থাকবেন।’ যদিও এই নাখুরামই ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে খুন করেছিলেন! তাকেই দেশপ্রেমিক বললেন গেরুয়া নেত্রী সাধ্বী। যিনি কিছুদিন আগে গোমূত্র পান করে তার ব্রেষ্ট ক্যান্সার ভাল হয়েছে বলে দাবী করে বিতর্কের ঝড় তোলেন।

এদিকে নাথুরাম গডসেকে নিয়ে কংগ্রেস এবং বিজেপি নেতাদের এই বাকযুদ্ধের মাঝে নিজেকেও সামিল করে নিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। সাধ্বী প্রজ্ঞার এদিনের মন্তব্যের পরে এই বিষয়ে নিজের অভিমত সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন মেহবুবা। ট্যুইটারে তিনি লেখেন, ‘যে হিন্দু ধর্মান্ধ জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে খুন করেছিল সে যদি দেশপ্রেমী হতে পারে তাহলে আমি দেশদ্রোহী হিসেবে গর্বিত।’

জাতির জনকের হত্যাকারী ব্যক্তিকে দেশপ্রেমী আখ্যা দেওয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি শিবিরকেও কটাক্ষ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি বলেছেন, ‘জাতির জনকের খুনিকে দেশপ্রেমী বলতে হবে! এই ধরণের জাতিয়তাবাদ এবং দেশভক্তি আমাদের আয়ত্বের বাইরে। এই দেশভক্তির জন্য আপনাদের (বিজেপি) শুভেচ্ছা।’

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ভোটসপ্তমীর আগে ভারতের জাতির জনকের খুনিকে নিয়ে সত্য কথা বলে বিতর্কে জড়ান অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া কমল হাসান। সেই মন্তব্য দেশ জুড়ে হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে প্রবল বিতর্কের ঝড় তোলে। এত কিছুর পরেও নিজের মন্তব্যে অনড় কমল হাসান। এবার জানান, যা বলেছেন তা ঐতিহাসিক সত্য। ভারতের প্রথম জঙ্গি একজন হিন্দুই।

১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি দিল্লির ‘বিড়লা হাউস’-এ বিকেলের প্রার্থনায় যাওয়ার সময়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে সামনে থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে হিন্দু নাথুরাম গডসে। দিল্লির লাল কেল্লায় গান্ধী হত্যা মামলার বিচার চলাকালীন গডসে নিজেও এই হত্যার কথা স্বীকার করে নেন। দেশভাগের জন্য গান্ধী-ই দায়ী বলে মনে করতে তিনি। সেই বিশ্বাস থেকেই এই খুন বলে জানান গডসে। ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর গডসের ফাঁসি হয় পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে।