সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভার্জিনিটি টেস্টে আপত্তি, সমাজে একঘরে নববধূর পরিবার!

১:২৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯ চিত্র বিচিত্র

চিত্র-বিচিত্র ডেস্ক :: বিয়ের পরে নববধূর কুমারিত্ব পরীক্ষা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল পরিবার। এই অবমাননাকর পরীক্ষার মুখে ফেলতে চায়নি নববধূকে। সেই ঘটনার জের ভুগতে হল গোটা পরিবারকে। গত এক বছর ধরে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে ওই পরিবারকে। ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ঘটনা এটি। ওই পরিবার কনঞ্জরভট সম্প্রদায়ভুক্ত।

বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে ওই পরিবার। ইতিমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বুধবার রাতে এদের বিরুদ্ধে থানের অম্বেরনাথ টাউন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানান বিবেক তামাইচিকর।

তিনি জানান, তার পরিবারকে বয়কট করে রেখেছে তথাকথিত সমাজের মাতব্বররা। কারণ তাঁর পরিবার চায়নি নববধূর ভার্জিনিটি টেস্ট হোক। পঞ্চায়েতের নির্দেশ মেনে তাদের ওপর গত এক বছর ধরে নানা রকম সামাজিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

সামাজিক কোনও অনুষ্ঠানেই ডাকা হচ্ছে না তাঁদের। এমনকী তাঁর ঠাকুমা গত সোমবার মারা যাওয়ার পর সম্প্রদায়ের কেউই সেই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আসেননি। এলাকায় একজনের মারা যাওয়ার পরেও বিয়ের মত নাচগানের আসর বসানো হয়। জোরে জোরে বাজানো হয় মাইক বলে অভিযোগ বিবেকের।

উল্লেখ্য, একেবারেই মানবিক ও বিজ্ঞানসম্মত নয় এই ভার্জিনিটি টেস্ট। শুধু তাই নয়, ডাক্তারি সিলেবাসে মহিলাদের কুমারিত্ব নিয়ে পুরো একটা অধ্যায় রয়েছে। এই অধ্যায়টিও সমাজে ও হবু ডাক্তারদের মনে লিঙ্গ বৈষম্য জাগিয়ে তুলছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

তবুও কোনও মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা তা বুঝতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই ২ আঙুলের পরীক্ষা। ডাক্তাররাও এই পরীক্ষার ওপর ভরসা রেখে এসেছেন। অভিযোগকারী মহিলার ওপর এই পরীক্ষা রীতিমত মানসিক অত্যাচার ডেকে আনে বলে মতামত বিভিন্ন মহলে। ডাক্তারি সিলেবাস থেকেই এই পরীক্ষা তুলে দেওয়ার আর্জি জানানো হয় মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতরে।

মহারাষ্ট্র ইউনিভার্সিটি অফ হেল্থ সায়েন্সের একটি এক্সপার্ট প্যানেল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এই আবেদন জানানো হয়েছে। ২০১৮’র ডিসেম্বরে ডা. ইন্দ্রজিত্‍ খাণ্ডেকর পুরোপুরিভাবে এই পরীক্ষা তুলে দেওয়ার আবেদন জানান। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কোনভাবে কারোর ওপর ধর্ষণ হয়েছে কিনা, তা নির্ভুল বোঝা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।