সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘নেতৃত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন শেখ হাসিনা’

১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, মে ১৮, ২০১৯ জাতীয়
hASINAA

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুক্রবার গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি দলের সভানেত্রী হিসেবে ৩৮ বছর বোধহয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় আপনাদেরও সময় এসেছে, তাছাড়া বয়সও হয়েছে।…এ বিষয়গুলো তো দেখতে হবে।’

১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা সমস্বরে না, না বলে ওঠেন। তারা অভিব্যক্তি দিয়ে জানিয়ে দেন বঙ্গবন্ধু কন্যাকেই তারা সভানেত্রী হিসেবে দেখতে চান।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এক নম্বর পলিটিক্যাল পার্টি। যে পার্টি মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছে। সেই আস্থা-বিশ্বাস আমরা দেখতে পারি এবারের নির্বাচনে, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে যারা প্রথমবারের ভোটার তারা সবাই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে তাদের আস্থা বিশ্বাস জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণটা হলো আমরা যে ক্ষমতায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য উন্নয়ন করেছি, মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য যে কাজগুলো করেছি সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতায় থেকেও মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি- এটাও কিন্তু বিশাল অর্জন।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জনগণের আস্থা-বিশ্বাস ধরে রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নেতা-কর্মীদের কাছে এটুকু চাইবো- এ আস্থা-বিশ্বাস যেন আমরা ধরে রাখতে পারি। ব্যক্তিগত জীবনে কি পেলাম, না পেলাম সে চিন্তা করি না। দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।

৩৮ বছরে বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হোক, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক, এমন কোনো কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য কখনো করেনি। নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার জন্য কাজ করিনি, কাজ করেছি দেশের মানুষের জন্য। সব সময় চিন্তা করেছি মানুষকে কি দিতে পারলাম, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম। বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের এই দিনে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। সেদিন বিকেল সাড়ে চারটায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে। তার নেতৃত্বেই দলটি দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখলে ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়সহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকবার গৃহবন্দি হয়েছেন শেখ হাসিনা। ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হয়ে প্রায় ১১ মাস বিশেষ কারাগারে কারাবন্দিও ছিলেন তিনি।

জনগণের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হয়ে টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। ‘‘রূপকল্প ২০২১’’ এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘‘রূপকল্প ২০৪১’’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।