• আজ ৩১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খাসি বলে খাওয়ানো হয় কুকুর-বিড়ালের মাংস!

১২:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, মে ১৯, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকাবাসীদের সন্দেহ হচ্ছিল, এলাকায় কিছু একটা ‘ভুল’ কাজ হচ্ছে! তারা বিষয়টি নজরে রাখছিল! কেননা দেয়াল ঘেরা ছোট একটি জায়গায় শুধু গাড়ি নিয়ে কয়েকজনকে ঢুকতে দেখেন তারা। ভেতরে যাওয়ার পর তালা লাগিয়ে দেয়া হয় প্রবেশ দরজায়। প্রতিদিন একই ঘটনা দেখে আরো সন্দেহ জাগে এলাকাবাসীদের। সরেজমিনে দেখতেই সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকেন।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যম বলছে, সেখানে গিয়ে তারা যা দেখতে পান লোকচক্ষুর আড়ালে কাটা হচ্ছে কয়েক সপ্তাহ আগের মরা-গলা বিড়াল-কুকুর। এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একটি গাড়ি আটক করে ভাঙচুর চালায় স্থানীয় জনতা। ভয়ে চার-পাঁচজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হাতেনাতে ধরা পড়েন একজন।

পরে আটক ব্যক্তি জানান ভয়াবহ তথ্য। তিনি জানান, কলকাতার মধ্যমগ্রামের বিভিন্ন হোটেলে, যশোর রোডের দু’ধারের একাধিক রেস্তোরাঁয় কুকুর-বিড়ালের মাংস সরবরাহ করেন তারা। কুকুর-বিড়ালের মাংসকে খাসির মাংস বলে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁতে দেয়া হতো।

গত সপ্তাহে দেশটির চেন্নাই প্রদেশের এগমোর রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে ১১০০ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়। এসব মাংস প্রদেশের বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ভিয়েতনামের হ্যানয়ের প্রায় ১০০০ দোকানে এখনো কুকুর এবং বিড়ালের মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। হ্যানয় পিপলস কমিটি বলছে, হ্যানয় যে একটি সভ্য এবং আধুনিক রাজধানী, সেই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে লোকজন কুকুরের মাংস খাওয়ার কারণে।

এছাড়া কুকুরের মাংস খেলে জলাতংক বা লেপটোপিরোসিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করে দিয়েছে। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের কর্তৃপক্ষ কুকুরের মাংস না খাওয়ার জন্য নগরীর বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

কারণ তারা মনে করছেন, লোকজন কুকুরের মাংস খেলে সেটা নগরীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। আর কুকুরের মাংস খেলে জলাতংক ছড়ানোরও আশঙ্কা আছে। বিড়ালের মাংস খাওয়া বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে হ্যানয় পিপলস কমিটি।

কুকুরের মাংস খাওয়া নিয়ে ভিয়েতনামের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে সাম্প্রতিককালে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বহু মানুষই এখন আর কুকুরের মাংস খাওয়া পছন্দ করে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যানয় কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক মানুষ। কিন্তু অনেকে বলেছেন, ভিয়েতনামের মানুষ সহজে কুকুরের মাংস খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করবে বলে তারা মনে করেন না।