• আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হাতে বালিশ নিয়ে বিক্ষোভ!

২:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ২০, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- পাবনায় নির্মাণাধীন রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় আসবাবপত্র কেনাকাটা এবং সেগুলোর বহন খরচ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিবাদে বালিশ হাতে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকজন ব্যক্তি।

সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণঐক্য এবং নাগরিক পরিষদ নামে দুটি সংগঠনের কিছু ব্যক্তি বালিশ হাতে নিয়ে এই বিক্ষোভ করেন। এই বিক্ষোভে ১৫ জনের মতো অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘কে দেখবে এই দুর্নীতি? কে থামাবে এই মহামারি?’ অন্য একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘কৃষক পায় না ফসলের দাম, চারিদিকে লুটপাটের জয়গান।’

বাংলাদেশ গণঐক্য সভাপতি আরমান হোসেন পলাশের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, উন্নয়নের অন্তরালে মহালুটপাটে মহাব্যস্ত মহাজোট সরকার।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বুয়ার বেতন, গাড়িচালকের বেতন, প্রকল্প পরিচালকের বেতন, সর্বশেষ বালিশের দাম ও তোলার দাম আকাশচুম্বী, তখন জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত হই।’

‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি আরও বলেন, ‘যখন দেখি কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ধানক্ষেতে আগুন দেয়, বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার পর বিচার হয় না, যখন ফেলানির লাশ কাঁটা তারে ঝুলে থাকে। বিচার কার কাছে চাইব কূল পাই না।’

বাংলাদেশ গণঐক্য সভাপতি আরমান হোসেন পলাশ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে হরিলুট হয়েছে তা ইতিহাসে সেরা। দুর্নীতির কালো মেঘ বাংলাদেশকে ঘিরে ফেলেছে। দেশে দুর্নীতির সঙ্গে বেড়েই চলেছে বেকারের সংখ্যা, কৃষকের হাহাকার। এ জন্য সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্য অস্বাভাবিক দামে কেনা ও সেগুলো ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয় নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, শুধু বালিশের বিষয়েই নয় প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসংঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সরকারি আসবাপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের এমন অসংঙ্গতির ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা জেলার পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।