ভায়াগ্রা তুমি কার! এই দ্বন্দ্বে ধুন্ধুমার হিমালয়ের দুই জনপদ!

৬:৪২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ২১, ২০১৯ চিত্র বিচিত্র

চিত্র-বিচিত্র ডেস্ক :: ভায়াগ্রা তুমি কার? এই দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হিমালয়ের ভূমিপুত্ররা। ধরচুলা ও মুন্সিয়ারি, ভারতের উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার এই দুই জনপদ থেকে পাহাড়ি মানুষগুলো আরও উচ্চতায় ওঠে। লক্ষ্য ‘কিড়া জরি’ আরোহণ, পশ্চিমা বিশ্বে চড়া দামে বিক্রি হয় এই ছত্রাক। এর পোশাকি নাম, ‘হিমালয়ান ভায়াগ্রা’।

গত কয়েক বছর ধরে এই ছত্রাক নিয়ে ধুন্ধুমার যুদ্ধ উত্তরাখণ্ডের বুই আর পাও গ্রামের মধ্যে। দু পক্ষই বলছে রলম আর রাজরম্ভা বুগিয়াল উপত্যকার কিড়া জরি তাদের। দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই উপত্যকা তাদের ভৌগোলিক সীমানায় পড়েভ তাই, তারাই কীড়া জরি নেবে এখান থেকে। মীমাংসা না হওয়ায় দু’পক্ষই জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু তাতেও সুরাহা হয়নি, বাধ্য হয়ে প্রশাসন ১৪৫ ধারা জারি করেছে।

কিড়া জরির মূল বৈশিষ্ট্য হল, এই ছত্রাক যৌন শক্তি বর্ধক। অনেকেই এক ডাকে হিমালয়ান ভায়াগ্রা বলে। চীনে এখন এই ভেষজ কেনাবেচা নিষিদ্ধ, কিন্তু চোরাপথে চীনে সোনার থেকেও তিনগুণ বেশি দামে হাতবদল হয় এই ছত্রাক। যৌন আনন্দ বৃদ্ধি ছাড়াও তিব্বতি ও চীনা আয়ুর্বেদিক চিকিত্‍সায় দাবি, গরম পানি, চা, স্যুপ অথবা স্টু-এর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তা সারিয়ে ফেলতে পারে ক্যানসার থেকে বন্ধ্যাত্ব। ভারতে হিমালয় লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা একে ডাকে কিরা জরি বলে। নেপালিরা আবার এই বিস্ময় ছত্রাককে বলে ‘ইয়ার্সা গুম্বা’।

কিন্তু এই দুষ্প্রাপ্য ভেষজ আরও বিরল হতে বসেছে, কারণ এর উত্‍পাদন অনেক কমে গেছে। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এর গবেষকরা কথা বলেছেন প্রায় আটশো জন স্থানীয় সংগ্রাহক, গবেষক, চিকিত্‍সক এবং ব্যবসায়ীর সঙ্গে। প্রাথমিক ধারণা, বিশাল চাহিদার জন্য অত্যধিক হারে সংগ্রহ করা হয়েছে এই ভেষজ, ফলে এর যোগান কমে গেছে। সেইসঙ্গে পরিবেশ দূষণের ফলে ব্যাহত হয়েছে এর ফলন।

এখনও পর্যন্ত কৃত্রিম উপায়ে এর ফলন সম্ভব হয়নি, এমনিতেই প্রাকৃতিক ফলনেও দরকার হয় বহু শর্ত। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা-সহ আরও বেশ কিছু জিনিস ঠিক হলেই দুর্গম হিমালয়ের কোলে জন্ম নেয় বিরল এই ছত্রাক। সমুদ্রতল থেকে অন্তত সাড়ে এগারো হাজার ফিট উচ্চতায় হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় জন্মায় এই ছত্রাক। তবে তুষারপাত হলে বা ভূমিতে বরফ থাকলে এই ছাত্রাক জন্মাবে না।

Loading...