• আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাজমিস্ত্রি সেজে হত্যা মামলার আসামি ধরলেন এসআই!

১২:০৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ২২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- পরনে লুঙ্গি, শরীরে গেঞ্জি। পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল। কাঁধে রাজমিস্ত্রির কাজে ব্যবহৃত বেলচা। তবে আপাতত দৃষ্টিতে তাকে রাজমিস্ত্রি মনে হলেও তিনি কিন্তু পুলিশের একজন কর্মকর্তা। এক হত্যা মামলার আসামিকে ধরার জন্য তিনি এমনই বেশ ধারণ করেন।

গত ১৪ মার্চ রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকার ধনিয়ায় একটি ভাড়া বাসার নিচ তলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে শারমিন আক্তার নামের এক নারীকে গলা টিপে হত্যা করে পালিয়ে যায় তার ঘাতক স্বামী মাসুদ হাওলাদার। এ সংক্রান্তে শারমিনের ভাই বাদী হয়ে কদমতলী থানায় পরদিন একটি হত্যা মামলা করেন।

হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর মামলাটির তদন্ত ভার দেয়া হয় কদমতলী থানার এসআই মো. লালবুর রহমান পিপিএম এর উপর। মামলাটি তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন তিনি।

ডিএমপি নিউজের খবরের বলা হয়, মো. লালবুর রহমান তদন্তকালে জানতে পারেন শারমিনের স্বামী মাসুদ পুরোনো প্যান্ট-শার্টের ব্যবসা করতেন। এ ব্যবসার জন্য তিনি শনির আখড়ায় দোকানের পজিশনও নিয়েছিলেন। ব্যবসা শুরুর আগেই স্ত্রীকে হত্যা করায় পজিশনের টাকা ফেরত নিতে দোকানের মালিকের পক্ষের লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

দোকানের অগ্রিম টাকা ফেরত নিতে ডেমরা থানার মিন্টু চত্বর এলাকায় আসেন মাসুদ। এর আগেই এসআই লালবুর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দোকান মালিকপক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাঁদের জানিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতে বলেন।

যেই কথা সেই কাজ, গত রোববার বেলা দুইটার দিকে মাসুদ হাওলাদার তাঁর দোকানের অগ্রিম দেওয়া টাকা নিতে মিন্টু চত্বরে আসতে চাইলে মালিকপক্ষ এসআই লালবুরকে খবর দেন। সংবাদ পাওয়ামাত্রই মামলার আইও এসআই লালবুর ও এএসআই মো. জসিম ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান।

এর আগে দোকানের মালিকপক্ষের লোকজন এসআই লালবুরকে জানান মাসুদ অনেক চতুর। সে তাঁর আশপাশে কোনো ভালো পোশাক ও চালচলনের কাউকে দেখলে দ্রুত সটকে পড়েন। কথাটি মাথায় রেখে এসআই লালবুর ছদ্মবেশ ধারণের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজমিস্ত্রির পোশাকে মিন্টু চত্বর এলাকায় অবস্থান করেন। দোকান মালিকপক্ষের লোকের ওপর নজর রাখেন এসআই লালবুর ও এএসআই জসিম।

একপর্যায়ে এসআই লালবুর দেখেন দূর থেকে একটি লোক মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় দোকান মালিকপক্ষের লোককে সালাম দিচ্ছেন। ঘটনাক্রমে অভিযুক্ত মাসুদ হাওলাদার এসআই লালবুর ও এএসআই জসিমের পাশেই অবস্থান করছিলেন। কোনো কালক্ষেপণ না করে মাসুদকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরেন এসআই লালবুর।

হঠাৎ জনসমক্ষে এমন ঝাপটে ধরার কারণ স্থানীয় লোকজন জানতে চাইলে নিজের পরিচয় দিয়ে এসআই লালবুর বলেন, যাঁকে ধরা হয়েছে তিনি হত্যা মামলার আসামি। তখন পুলিশের এমন কাজের জন্য স্থানীয়দের প্রশংসায় প্রশংসিত হন কদমতলী থানা-পুলিশের এই চৌকস অফিসার।

হত্যার সময়ের চেহারা সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তির চেহারার তারতম্য থাকার কারণ জানতে মাসুদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তাঁর চেহারা ছিল অনেক ফরসা এবং দাড়ি-গোফহীন। নিজেকে গোপন রাখতে তিনি তাঁর চেহারায় পরিবর্তন এনেছেন। চেহারা পরিবর্তন করতে তিনি দিনের বেশির ভাগ সময় রোদে থাকতেন যাতে করে ফরসা রং কালোতে পরিণত হয়। সেই সঙ্গে মুখে রেখেছিলেন বড় দাড়ি-গোফ, যাতে করে পুলিশ বা অন্য কেউ তাঁকে চিনতে না পারে।

গ্রেপ্তার মাসুদ হাওলাদার গতকাল সোমবার আদালতে অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা যায়, কর্মজীবনে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে সফলতা স্বরূপ পিপিএম পদক পেয়েছেন লালবুর রহমান। গত মাসে ডিএমপি অপরাধ সভায় ওয়ারী জোনের শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হন তিনি।