শ্রমিক আন্দোলনে টাকা দেয়া নিয়ে ‘রিজভী-মঞ্জু’র ফোনালাপ ফাঁস! (অডিও)

১:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ২২, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনে মদদ দেয়া সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ফোনলাপ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বলে দাবি করে সংবাদ প্রচার করেছে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভি এবং চ্যানেল ২৪।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, টাকা দিয়ে খুলনার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বিএনপির একটি অংশ। রুহুল কবির রিজভী এবং নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে ওই ফোনালাপটি রিজভী এবং মঞ্জুর কিনা সেটি এখন পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি এবং বিএনপি থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।

আলোচিত ওই ফোনালাপের বিস্তারিত পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

ফোনালাপের শুরুতেই মঞ্জু জিজ্ঞেস করেন, ফোন দিয়েছিলেন? জবাবে রিজভী বলেন, হ্যাঁ।

এরপর মঞ্জু বলেন, ‘খালিশপুরে আমাদের বিএনপি অফিসে বসে তিনটি স্পট খালিশপুর, খানজাহান আলী থানার দুটি মিল এবং নওয়াপাড়ার দুইটি মিল এখানকার মোট পাঁচটি মিলকে ভাগ করে ৯০ হাজার, ৩০ হাজার এবং ৯৫ হাজার করে মোট তিন লাখ টাকা মিটিং করে দিয়ে আসছি।’ তখন এর উত্তরে রিজভী বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে।

মঞ্জু আবার বলেন, ‘কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কি এখানে যে মঞ্চ আছে সেটা আওয়ামী লীগের। ওখানে শ্রমিক লীগ লেখা আছে। যার কারণে আমরা মঞ্চের দিকে যাই নাই। দূর থেকে কাজ করি আর আলাদা প্রোগ্রাম করি মূল শহরে।’ এর জবাবে রিজভী বলেন, সেভাইবেই তো করবেন।

মঞ্জু আরও বলেন, মঞ্চের ওইখানে অ্যালাউ করে না, গেলে বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তখন রিজভী বলেন, আপনারা একটা কন্ট্রিবিউট করেছেন দ্যাটস এনাফ।

এরপর মঞ্জু বলেন, ‘সেটাই প্রচার করছি আমরা, সেভাবেই জানছে।’ পরে রিজভী : আপনার সাথে কাল অমিত আর জয়ন্ত থাকবে। আপনি যেখানে যাবেন ওরা সঙ্গে থাকবে। সব বলে দেবেন আপনি। তখন মঞ্জু বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ মে থেকে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এসব পাটকলের ২৫ হাজার শ্রমিকের পাওনা প্রায় ৬৫ কোটি টাকা।

বন্ধ করে দেয়া মিলগুলো হচ্ছে- প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিল, ক্রিসেন্ট জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিল, কার্পেটিং, জেজেআই জুটমিল। সকালের মধ্যে খালিশপুর রাষ্টায়ত্ত পাটকলও বন্ধ হতে পারে।

মিল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত এ ৯ পাটকলে ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিকের ১১ সপ্তাহের প্রায় ৬৫ কোটি টাকা মজুরি বকেয়া রয়েছে।

অডিও শুনুন এখানে-