• আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কঙ্কালে পরিণত হচ্ছে শিশু আবির, ফেলে চলে গেছে বাবা-মা

৫:৫৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ২২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বয়স মাত্র চার বছর, কিন্তু দেখতে অনেকটা বৃদ্ধ মানুষের মতো। স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারে না হাত-পাও।  অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু আবিরের শরীরটা দিনদিন কঙ্কালে পরিণত হচ্ছে।

এ অবস্থায় শিশুটির বাবা-মা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কাশিপুর গ্রামের নানা বাড়িতে সন্তানকে ফেলে পালিয়েছে। অথচ শিশুটিকে বাঁচাতে তার নানা-নানি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, আবির-আপন দুই ভাই। বাবা-মায়ের কাছে আদরে আছে ছোট ভাই আপন। কিন্তু আবিরের কপালে জোটেনি বাবা-মায়ের আদর স্নেহ। দরিদ্র দিনমজুর নানা লিয়াকত আলী ও নানি মঞ্জুরা বেগম এখন আবিরের একমাত্র ভরসা।

নানি মঞ্জুরা বেগম জানায়, গত ৫ বছর আগে যশোর সদর উপজেলার সাতমাইল এলাকার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আলাউদ্দীনের ছেলে দিনমজুর আল-আমিনের সঙ্গে তাদের মেয়ে রতনা খাতুনের বিয়ে হয়। এরপর এক বছরের মাথায় আবিররের জন্ম হয়। জন্মের পর সুস্থই ছিল আবির। কিন্তু জন্মের ৮মাস পর স্থানীয় টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দেয়ার পর থেকে প্রচন্ড খিঁচুনি শুরু হয়। সঙ্গে অনেক জ্বর। এরপর বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়েছে কিন্তু কোনো উন্নতি হয়নি।

পরে খিঁচুনি কমলেও শরীর শুকিয়ে যেতে থাকে তার। অসুস্থ হওয়ার পর মেয়ে-জামাই আবিরকে আমাদের কাছে রেখে চলে যায়। এরপর থেকেই আমাদের কাছে রয়েছে। পরে মেয়ের ঘরে আবার একটা সন্তান আসে। অথচ বড় ছেলের কোনো খোঁজখবর রাখে না তারা।

প্রতিবেশীরা জানান, তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। যা দিনমজুর নানা লিয়াকত আলীর পক্ষে কোনোভাবেই জোগাড় করা সম্ভব না। তাই শিশুটিকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।

আবিরের বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, আগে কখনও এমন রোগ দেখিনি। এটা কি ধরনের রোগ বলতে পারবো না। পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখতে হবে কি কারণে এমন হয়েছে?