সংবাদ শিরোনাম
বেনাপোলে নারীর ব্যাগ থেকে ৪০হাজার ৪শ ইউএস ডলার ও ১৩ লাখ ভারতীয় রুপি উদ্ধার | কয়েক দফা ধর্ষণে ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা , শিক্ষক গ্রেফতার | খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলবে বিএনপি | পরকীয়ার টানে পালিয়েছে স্ত্রী, ক্ষোভে শ্যালিকাকে পাঁচমাস ধরে ধর্ষণ! | ফরিদপুরে বন্যায় রাস্তাঘাটসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যপক ক্ষতি | আবার ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাকিব | রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার মটরসাইকেল মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ৬ | কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পেলেন মাশরাফি | সাতক্ষীরায় খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ | সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ঐতিহ্য ‘ভাইয়াফি’ কুস্তি খেলা |
  • আজ ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের কেজি ৮ টাকা, বিপাকে চাষিরা

৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯ রংপুর

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ের চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায মূল্য না পাওয়ায় হতাশায় দিন পার করছেন চাষিরা। ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা আসল টাকাও তুলতে পারছে না এমন অভিযোগ চাষিদের। এমনকি বাজারে ধানের চাহিদা না থাকায় কাঁচা ধান নিয়ে বিপাকে পরেছেন তারা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬২ হাজার ৩শ’ ৬০ হেক্টর আর অর্জিত হয়েছে ৬২ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর। কৃষি বিভাগ বলছে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় এবার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে চাল উৎপাদন হয়েছিল ৩.৮ টন আর এবার বৃদ্ধি পেয়ে ৪ টন হচ্ছে।

আশানুরুপ ফলন হলেও ধান উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সকল উপাদানের দাম বেশি থাকায় লোকশানের মুখে পরেছেন চাষিরা। গত মৌসুমের ধান ব্যবসায়ীদের ঘরে জমে থাকায় ধান ক্রয়ে তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। তাই বাজারে ধানের চাহিদা না থাকায় দাম কমেছে ধানের।

১৬শ’ ৯০ টি হ্যাস্কিং মিল ও ১৭ টি অটো রাইস মিলের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৬শ’ ১৯ মেট্রিকটন চাল ও ১ হাজার ৮শ’ ৫৭ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করবে সরকার। যা উৎপাদনের তুলনায় সামান্য।

জামালপুর এলাকার কৃষক আব্দুল্লাহ ও হামিদুর জানান, বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলার হাট বাজারগুলোতে প্রতি মন ধান ৩০০/৩৫০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। যেখানে প্রতি মন ধান উৎপাদন খরচ ৬০০/৬৫০ টাকা। এভাবে ধানের দাম প্রতিবার কম পাওয়ায় কৃষকরা লোকসানে পড়ছে। এর পরের বছর থেকে কোন কৃষক আর ধান চাষ করতে চাইবে না।

ঠাকুরগাঁও জেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজু বলেন, বর্তমানে বাজারে যে ধান আমদানি হচ্ছে তা কাঁচা ধান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ি আদ্রর্তায় আনলে ৪০ কেজি ধান ১০ কেজি কমে যাবে। তাই বাজারে ধানের দাম কম সত্য হলেও ভালো ধানের দাম কিছুটা ভালো আছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের চেয়ে এবছর ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া গত আমন মৌসুমের ধান এখনও মিলারদের কাছে মজুত থাকায় ধান ক্রয়ের আগ্রহ নেই মিলারদের। মিলাররা যে পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে তাতে গত মৌসুমের ধান শেষ হবে না। তবে সরকার যদি আরও বরাদ্দ দেয় তাহলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন বলেন, ধান উৎপাদনের জন্য সকল উপাদন সময়মত পাওয়ায় ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষিদের ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজারে যে দাম তাতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তবে ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে পরে লাভবান হতে পারে।

এছাড়াও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ধান চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ে ধান-চাল ক্রয় শুরু হবে। ব্যবসায়ীরা ক্রয় শুরু করলে বাজার স্থিতিশীল হতে পারে।