এবারের ঈদ যাত্রাতেও চরম ভোগান্তির আশঙ্কা

৪:১৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯ ফিচার
EID

রাজু আহমেদ,ষ্টাফ রিপোর্টার- ঈদ,বাংলাদেশসহ গোটা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঈদ আসলে কর্মসংস্থানের কারনে রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী ৯০শতাংশ মানুষই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন। আত্মীয়-স্বজন ও নিজ এলাকার মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই রাজধানী ছাড়েন কোটি মানুষ।

তবে প্রতি বছরের ন্যায় এবারের আসন্ন ঈদযাত্রাতেও ভোগান্তি নিয়ে চরম শঙ্কা রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই মহাসড়কে ছোটখাটো সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করার প্রক্রিয়া চলে। ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে, যানজট হবে না- এমন ঘোষণা আসলেও ঈদের ২/৪ দিন আগে থেকেই স্থবির হয়ে পড়ে মহাসড়কগুলি। চরম অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয় ঈদে ঘরমুখো মানুষদের। নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও চলতি সময়েই দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের অনেক স্থানে চলমান নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় জনদূর্ভোগের এ আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ।

এবার ঈদযাত্রায় মহাসড়কে নিরাপত্তা, ভোগান্তি কমানো এবং যানবাহনের শৃঙ্খলায় সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলছে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এবার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশও সড়কে দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর বিভিন্ন সমন্বয় সভা করে সুনির্দিষ্ট নানা নির্দেশনাও দিয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী, গত ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন সড়কে-মহাসড়কে ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৯ জন নিহত এবং এক হাজার ২৬৫ জন আহত হন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ৩৩৫টি ঘটনায় ৪০৫ জন নিহত এবং এক হাজার ২৭৪ জন আহত হন। এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট করে ২০টি প্রস্তাবনাও রাখা হয়েছে এই সংস্থাটির পক্ষ থেকে ।

হাইওয়ে পুলিশের মতে, ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষের বড় অংশেরই ভরসা সড়ক-মহাসড়ক। বাসের আগাম টিকিট কেনা যাত্রীরা আগামী ২৯ তারিখের মধ্যে ঈদযাত্রা শুরু করবেন। চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার ঈদঘিরে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখার চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। এবার নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। তবে অনেক স্থানে নির্মাণকাজ শেষ হলেও মোটাদাগে শেষ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার ফোর লেনের কাজ চলছে। এ সড়কে চলাচল এখন নাজুকপর্যায়ে। নিত্যদিন স্বাভাবিকভাবে এ সড়কে চলাচলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বেশি সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে তিনটা ফ্লাইওভারের কাজ। চলছে রাস্তা ঘেঁষে ড্রেন নির্মাণের কাজও। নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে প্রতিদিন। কখনও কখনও ক্রেন বিকল হয়ে যানজট তৈরি করছে। যে কারণে এবার রাজধানী থেকে গাজীপুর রুট দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলোতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। ঈদের সময় এ সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে।

তবে আশার কথা হলো, মহাসড়কে যানজটের অপর নাম চন্দ্রা ও কোনাবাড়ি। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই (২৫ মে) সেই চন্দ্রা ও কোনাবাড়িতে ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে ওই এলাকায় যানজট থাকবে না বলে ধারণা হাইওয়ে পুলিশের।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী।

গত ২১ মে পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় আইজিপি মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক চলাচল বন্ধ এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া যানবাহন না থামানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

সড়কে চাঁদাবাজি হলে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর অনুরোধ করে হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি এম এ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, পরিবহনে চাঁদাবাজি, যাত্রী হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না। আমাদের নজরদারি পাশাপাশি যে কেউ আমাদের অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোথাও গাড়ি থেমে থাকবে না। যেখানে একটু সমস্যা আছে সেখানে হাইওয়ে পুলিশ থাকবে। পাশাপাশি সহযোগিতায় এবার এপিবিএন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশও সড়কে দায়িত্ব পালন করবে। যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই সবাই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন এই কর্মকর্তা।

তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, প্রতি বছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ঈদে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি ও সক্রিয় অবস্থানের কারণে খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ফেরার পথে তদারকি না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।
‘তবে ঈদযাত্রা মানে শুধু যাওয়াই নয়, কর্মস্থলে ফিরে আসাও। এবার সকলেরই একই প্রত্যাশা, যাওয়া ও আসার পথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি থাকবে। পুলিশ সদর দপ্তর, যাত্রী কল্যাণ সমিতির ২০ দফা প্রস্তাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার এসব নির্দেশনা অনুসরণ করলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কম হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করছেন সকলেই।’