• আজ ৩১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নগরে বসবাস করেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নাওভাঙ্গা চরের মানুষ

২:৩৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, মে ২৫, ২০১৯ ময়মনসিংহ
jamalpur

আবদুল লতিফ লায়ন,জামালপুর- নদের এপারে স্কুল কলেজ, কোর্ট কাচারী, হাসপাতাল, আদালত ফৌজদারী। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন আলো ঝলমলে নগরিক জীবন। ওপারে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত, অন্ধকারাচ্ছন্ন, পিছিয়ে পরা মানুষের জীবন মান। সড়ক আছে সংযোগ নেই, ল্যাম্পপোস্ট আছে ল্যাম্প নেই। নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্রীজ কালবার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। জামালপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড নাওভাঙ্গাচরের চিত্র এটি।

জানা যায়, জামালপুর পৌরসভার পিছিয়ে পরা একটি গ্রামের নাম নাওভাঙ্গা চর। প্রায় ২শতাধিক পরিবারের বসবাস এ গ্রামে। যাদের বেশির ভাগ মানুষেরই পেশা কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এগ্রামের মানুষ যে সোনার ফসল ফলায় তা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়েও বিক্রির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে। কিন্তু শুধু একটি ব্রীজ বা সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে তারা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাদের কষ্টার্জিত ফসলের সুফল চলে যাচ্ছে মধ্যসত্বভোগীদের পকেটে। অথচ বৃটিস আমল থেকেই এ গ্রামে অভ্যান্তরে একটি ম্যাপের রাস্তা রয়েছে। যা হযরত শাহ জামাল ( রঃ ) এর মাজার সামনে বটতলা থেকে নাওভাঙ্গা চর হয়ে চরপক্ষিমারী দিয়ে শেরপুরের আমতলি হয়ে প্রধান সড়কে গিয়ে মিশেছে। যুগ যুগ ধরে দুই জেলার চরাঞ্চলের মানুষ এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করছেন।

সড়কটির জামালপুর অংশের সংযোগস্থলে ( মরা ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ) যে কাঠের সাঁকো রয়েছে তার উপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে, নাওভাঙ্গা চরে উৎপাদিত ফসল সরাসরি বাজারজাত করতে পারে না কৃষক। এছাড়া গ্রামের অভ্যান্তরে এম্বুলেন্স প্রবেশের সুযোগ না থাকায় মুমুর্ষূ অসুস্থ্য রোগীরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা পায় না। অগ্নি দুর্ঘটনার মত ভয়াবহ কোনো ঘটনা ঘটলেও ঢুকতে পারে ফায়ার সার্ভিস গাড়ী। ব্রীজ বা সংযোগ সড়ক নাথাকায় গ্রামবাসীর শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরী নিরাপত্তার প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর গাড়ীও ঢুকতে পারে না এ গ্রামে। যার কারণে নগরে অদুরে বসবাস করেও তারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এ ব্যাপারে, নাওভাঙ্গা চরের হাজেরাতুন-নূর মসজিদের ঈমাম, মোঃ অলিউল¬াহ বলেন, এ গ্রামের মানুষের ইবাদতের প্রয়োজনে বহু কষ্টে আমরা এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আরেকটি মাদ্রাসা গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামবাসী। কিন্তু এর নির্মাণ সামগ্রী পরিহনের সরাসরি কোনো সুযোগ নাথাকায় আমরা কাজে হাত দিতে পারছি না। গ্রামের সংযোগস্থলে মরা নদের উপর যে সাঁকোটি রয়েছে সেখানে যদি একটি ব্রীজ করে দেওয়া হয় বা ভরাট করে রাস্তা করে দেওয়া হয় তাহলে গ্রামের আর্থ সামাজিক জীবন ও যাত্রার মান অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

নাওভাঙ্গা চরের একজন বড় কৃষক হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আমাদের নাওভাঙ্গা চর জনগোষ্ঠির বড় অংশের বসবাস মাজারের সামনে। এখানে একটি ম্যাপের রাস্তাও রয়েছে। রয়েছে লোক চলাচলের জন্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে কাঁঠে সাঁকো। জনগুরুত্বতার বিবেচণায় এটি ব্রীজ নির্মাণের উপযুক্ত জায়গা। সেমতে এখানে একটি ব্রীজ বা সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে পিছিয়ে পরা নাওভাঙ্গা চরের মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেকাংশে এগিয়ে যাবে।