‘আমি মুসলমানদের ইফতারে একশবার যাবো, হাজার বার যাবো’

১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, মে ২৬, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি। যদিও দলের নেতারা তার সেই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাননি।

শনিবার বিকালে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন দলনেত্রী। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দলের অপ্রত্যাশিত ফল নিয়ে পর্যালোচনা করতেই মমতার এই বৈঠক।

বৈঠকে তৃণমূলের প্রার্থীরা ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীরা, জেলা সভাপতি ও দলের শীর্ষ নেতারা। বিকাল চারটা নাগাদ শুরু হয় এ বৈঠক চলে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। বৈঠকের পরই সংবাদ সম্মেলন করে নিজের পদত্যাগের এ ইচ্ছার কথা সামনে আনেন মমতা। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।

মমতা বলেন, চেয়ারের আমাকে প্রয়োজন, আমার চেয়ারের প্রয়োজন নেই। আমি আমার দলকে ভালোবাসি। মানুষকে ভালোবাসি। নিজের হাতে তৈরি দলের কাজে মন দিতে চাই। সেজন্যই আমি আজ মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চেয়েছিলাম। গত পাঁচ মাসে আমাকে কোন কাজ করতে দেওয়া হয় নি। একপ্রকার ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম আমি।”

তিনি বলেন, এত কিছু করেও আমাদের ভোট চার শতাংশ বেড়েছে। ওরা জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। তবু গণতন্ত্রে সংখ্যা জরুরি বিষয়। মোদীজিকে অভিনন্দন। কিন্তু মনে রাখতে হবে সাম্প্রদায়িকতা বীজ ছড়িয়েছে জিতেছে বিজেপি। হিন্দু মুসলমান ভোট ভাগাভাগি করেই ওরা জিতেছে। আমি কখনও এসব করি না। দরকার হলে একা থাকতে রাজি আছি।

তিনি বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। ভাটপাড়ায় দাঙ্গা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে কমিশন। তাঁর দাবি পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়ে বিজেপি ভোট কিনেছে। পরিবারে পাঁচ জন সদস্য থাকলে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।

তাঁর দাবি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সরকারি আধিকারিকদের ব্যবহার করে টাকা ঢুকিয়ে দিতে পুলিশ আধিকারিকদের বদল করেছে কমিশন। মমতা বলেন, আমরা এখনও রাজ্যে সংখ্যা গোরিষ্ঠ দল তবু বিজেপি ভাঙচুর করেছে। কংগ্রেস কখনও কখনও আত্নসমর্প করে। আমি করি না।

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, পাকিস্তানকে সাহায্য করছে বিরোধীরা।

সেই বিষয়ের উল্লেখ করে মমতা বলেন, পাকিস্তানকে শপথ গ্রহণে ডাকা হচ্ছে আর নির্বাচনের সময় সবাইকে পাকিস্তানের চর বলা হয়েছে। এই দ্বিচারিতার কারণ কী? ইভিএমে কারচুপি হয়েছে বলে মমতার অভিযোগ। তাঁর প্রশ্ন পাঁচ ছটা রাজ্যে বিরোধীরা একটা আসন পায়নি। সেটা হয় কী করে হয়?

ইভিএমে কারচুপি করা হয়েছে অভিযোগ মমতার। যে সমস্ত আসনে আমরা এক লক্ষ ভোটের কমে হেরেছি সেগুলো নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

বিরোধীদের তোষণের রাজনীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৩০ তারিখে আমি কলকাতা কর্পোরেশনে ইফতারে যাচ্ছি, আপনারাও আসবেন। আমি নাকি মুসলিমদের তোষণ করি, আমি একশত বার যাবো, হাজার বার যাবো। যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খাওয়া উচিত। তাছাড়া আমি ইফতারে প্রতিবারই যাই। আমাকে যে ডাকবে সেখানেই যাবো।’

তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে একতরফা ভাবে হিন্দু-মুসলমান করা হয়েছে। কিন্তু আমি এই থিওরি মানি না। আমি ওদের (বিজেপি) অভিনন্দন জানিয়েও বলছি যে, আমি ওদের এই থিওরি মানি না। এতে যদি আমাকে একা থাকতে হয়। তবে তাতেও রাজি আছি। কিন্তু আমি হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিষ্টান ভোট ভাগাভাগিতে মানি না।’