কনডেম সেলে ফুপিয়ে কাঁদেন সেই ঐশী, রাখছেন রোজা, পড়েন নামাজও

১:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ২৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাজধানীর চামেলীবাগে নিজের বাসায় বাবা পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও মা স্বপ্না রহমানকে হত্যাকারী ঐশী রহমানের কথা মনে আছে? বাবা-মাকে খুনের দায়ে আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া সেই ঐশী এখন গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দি।

কীভাবে একাকী তার সময় কাটে ওই ছোট্ট প্রায়ান্ধকার প্রকোষ্ঠে। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এখন এই রমজানে নিয়মিত রোজা রাখছে একসময় উচ্ছন্নে যাওয়া ঐশী। নামাজও পড়ে নিয়মিত।

কারাসূত্রে জানা গেছে, প্রায়ই অনুশোচনায় নির্বাক ও নিস্তব্ধ হয়ে থাকেন ঐশী। কনডেম সেলে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদেন। এবার রমজানের শুরু থেকে রোজা রাখছেন ও পাশাপাশি নামাজও পড়ছেন নিয়মিত।

কারাসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ঐশীর জীবন থেকে কলঙ্কিত নেশা জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। সে এখন অনেকটা স্বাভাবিক। কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। মাঝেমধ্যে অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়াতে দেখা যায়। নাওয়া-খাওয়ার দিকে সে বিশেষ একটা মনোযোগী নয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান ঢাকার চামেলীবাগে নিজ বাসায় খুন হন। এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠে তাদের মেয়ে পলাতক ঐশীর বিরুদ্ধে। পরে এক বন্ধুর বাসায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ঐশী। বাবা-মাকে হত্যার দায় স্বীকার করে নেন তিনি।

এরপর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মা-বাবাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন ঐশী। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। ৩৯ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। আর তার বন্ধু রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ঐশী এখন স্থায়ীভাবে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বাসিন্দা।