• আজ ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শ্যালিকাকে পেতে স্ত্রীকে হত্যা করে বাগানে কবর!

১২:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: স্ত্রীর বোনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার বাসনায় দুই সন্তানের মাকে চাকার সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করে এক নৃশংস স্বামী। আদালতের শুনানিতে হত্যাকারী আহমেদ দাউদ সিদাত বলেন, ফাতিমা ইউসুফ নামের নিহত তার ব্রিটিশ স্ত্রী যখন তাকে বলে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’, তা শুনেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বাড়ির পেছনের বাগানে পুঁতে রাখে।

২০১৮ সালের আগস্টের এক দিন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে নিজেদের ঘরে দুই সন্তান যখন ঘুমচ্ছিল তখন তাদের ৩৭ বছর বয়সী পিতা আহমেদ দাউদ সিদাত বোল্টনের নাগরিক ৩২ বছর বয়সী মা ফাতিমাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলেন।

সোমবার (২৭ মে) অস্ট্রেলিয়ার একজন বিচারক সিদাতকে তার হত্যাকে নৃশংস, কলুষিত ও কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। বিচারক বুরনো ফিয়ান্নাকা জানায়, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিদাত তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।

বিচারক বলেন, সিদাত হত্যার কয়েকদিন আগে থেকেই মানবদেহ পুঁতে রাখার কৌশল, কাউকে মেরে ফেলার সহজ উপায় এবং জীবিত কবর দেয়ার মতো বিষয়গুলো অনলাইনে অনুসন্ধান করছিলেন।

সিদাত দীর্ঘ ৮ বছর ধরে সংসার করা স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যেই চাকা দিয়ে আঘাত করে। এর আগে আদালতে সিদাতের আইনজীবী বার্নার্ড স্ট্যান্ডিশ বলেছিলেন যে, তার ক্লায়েন্ট স্ত্রীর জন্য আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে এবং সে আর তার যৌন চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না।

আদালতের রায় শুনে সিদাত এই হত্যাকাণ্ডের রাতের সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তাকে জানান। সিদাত তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘যৌন আগ্রাসী’ হয়ে তার ওপর হামলার অভিযুক্ত করেন। তবে, বিচারক ফিয়ান্নাকা তার এই অভিযোগকে কল্পনাপ্রসূত বলে আখ্যা দেয়। তিনি বলেন, মিসেস ইউসুফ প্রথম আঘাতের পর চেতনা ফিরে পেলেও শারীরিকভাবে আঘাতের জন্য অসমর্থ ছিলেন, যখন সিদাত তাকে আঘাত করা চালিয়ে যাচ্ছিল।

এরপর, সিদাত তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আগে থেকেই করা গর্তে পুঁতে রাখে। হত্যার আগেই সিদাত এক শ্রমিকের দ্বারা তার দুই ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তানদের খেলার জন্য একটি গর্ত করিয়ে রেখেছিল। তার স্ত্রীর শেষ কথা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে দাবি করেন সিদাত।

কিন্তু বিচারপতি ফিয়ান্নাকা বলেন, সিদাতের জঘন্য হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত রাখার জন্যই এমন বলেছিলেন এবং যে বিশ্বাসঘাতকতা সে অনুভব করেছিল তা প্রচার করেছিল। মিসেস ইউসুফের মৃত্যুর কারণ অনির্দিষ্টর মধ্যে রয়ে গেছে। তবে, বিচারপতি ফিয়ান্নাকা বলেন যে, তার মাথার ও শরীরের আঘাতের থেকে এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া মৃত্যু হয়।

ফাতিমার মৃত্যুর পর সিদাত তার অনুপস্থিতি ব্যাখ্যা করতে মিথ্যা বলেছিলেন। বন্ধু ও প্রতিবেশীদের বলছিলেন যে, তার স্ত্রী চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন এবং স্ত্রীর বোনকে বলেছিলেন যে ফাতিমা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।

সিদাতের মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে আসা। তার একজন বন্ধুকে ফাতিমার অন্তর্বর্তী পিতাকে ফোন করতে এবং পুলিশ অফিসারকে জানাতে অনুরোধ করেছিলেন।

তবে, বিচারপতি এলে সিদাতের নৃশংসতার বৈশিষ্ট্যগুলোর অংশ অংশ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, নার্সিসিস্ট সিদাত মনে করেছিল যে, লোকেরা তার মিথ্যা কথা বিশ্বাস করবে এবং সে তার কৃত অপরাধ থেকে মুক্তি পাবে। এটা টেকনিক্যালি অদ্ভুত ছিল কিন্তু এই আচরণ ছিল সিদাতের ছক কষা।

মৃত্যুর পর চারদিন পর মিসেস ইউসুফের নিখোঁজ সংবাদ রিপোর্ট করা হয় এবং পরের দিন পুলিশ ফাতিমার দেহ খুঁজে পায়। সিদাত তার শ্যালিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার বাসনায় ছিল। সেই মেয়ের প্রিয় বন্ধু হিসেবে সিদাত নিজেকে তুলে ধরলেও তাকে শুধু ভাইয়ের দৃষ্টিতেই দেখতেন বলে জানান।

বিচারপতি সিদাতকে বলেন, ‘আপনি আপনার স্ত্রীর বোনের সঙ্গে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন … আপনি তাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলেন’। স্ত্রীকে হত্যার আগে সিদাত অনলাইনে অনুসন্ধান করে দেখেছে, মুসলিম ধর্মে স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার বোনকে বিয়ে করা যায় কি না। তার সন্তানদের মাতৃহারা করে এখন সে অনুতপ্ত। বিচ্ছিন্নভাবে জালিয়াতির অভিযোগের মুখোমুখিও হচ্ছে সিদাত, তার বিরুদ্ধে ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার চুরির অভিযোগ ওঠে।