• আজ ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘জাপান টাইমসে’ প্রকাশিত কলামে যা লিখলেন প্রধানমন্ত্রী

১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ আন্তর্জাতিক
pm

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ মঙ্গলবার জাপানের শীর্ষ গণমাধ্যম ‘দ্য জাপান টাইমসে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি কলাম প্রকাশিত হয়েছে। ‘উন্নয়নের জন্য জাপান-বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শিরোনামের ওই কলামে জাপান সম্পর্কে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী গত এক দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নকে অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ গত দশকে ৬.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করেছে ও এ বছর ৮.১৩ শতানশ উন্নয়ন প্রত্যাশা করছে। আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। যার মধ্যে একটিতে জাপানী বিনিয়োগকারীরাও রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাপানের শিক্ষার্থীরা তাদের খাবারের টাকা বাঁচিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দিককার দেশগুলোর মধ্যে জাপান ছিল অন্যতম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রায়শই বলতেন জাপানের পতাকা তাকে সূর্যোদয়ের দেশের কথা মনে করিয়ে দেয় আর বাংলাদেশের পতাকা মনে করিয়ে দেয় লাখ লাখ জীবনের আত্মত্যাগ ও সবুজ মাঠের কথা।

প্রধানমন্ত্রী নিবন্ধে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন তা নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। বর্তমানে ২৮০ টি জাপানী ফার্ম বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে। জাপানী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারা সমীক্ষায় দেখা যায় জাপানী-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানগুলো বাংলাদেশে উন্নতি করছে।’

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানী অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে দেশটির সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে মধ্য আয়ের জনগণ ক্রমেই বাড়ছে যা অটোমোবাইলের মতো নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উদার ও অনুকূল দেশ। আমরা বিদেশি প্রাইভেট বিনিয়োগকারীদের প্রায় সকল ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য স্বাগত জানাই। বৃহৎ পরিসরে কর মওকুফের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সুযোগ পাচ্ছে।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী, ‘বাংলাদেশের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রকল্প যেমন পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, হাই-টেক পার্ক এবং আইসিটি পার্ক প্রভৃতি এখন দৃশ্যমান এবং বড় আকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সূচনা করেছে। এগুলোর মাধ্যমে বহু ধরণের পরিবহণ ব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সর্বোপরি জীবনমানের উন্নতি নিশ্চিত করবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু জাপান ও এর জনগণ আমাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আমাদের পাশে থাকবে।’

২০১৬ সালে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় জাপানী নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনাকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপরও জাপানের জনগণ ও সরকার আমাদের পাশে থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। জাপান ও বাংলাদেশ জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২২ সালে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী। আমি আশাবাদী যে শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের পারস্পরিক মূল্যবোধ ও প্রতিশ্রুতির দ্বারা জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনে আমরা সমর্থ হবো। আমাদের একইরকম পতাকা আমাদের অবিচ্ছেদ্দ সম্পর্ককেই স্মরণ করিয়ে দেয়।’

জাপানের প্রতি শৈশব থেকেই প্রধানমন্ত্রীর মুগ্ধতা ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাপানী চিত্রকলা, ক্যালেন্ডার, ডাকটিকেট, পুতুল প্রভৃতি সংগ্রহ করতাম। জাপান সবসময়েই আমাদের হৃদয়ের কাছাকাছি ছিল। আমার পিতার কাছ থেকেই এটি আমার মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে। বাংলাদেশ যেন আরেক জাপান হয়ে উঠতে পারে সেজন্য তার এই আকাঙ্ক্ষা আমি আমার দেশের মাঝেও সঞ্চারিত করতে চাই। এই নতুন যুগে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর ও সুদৃঢ় হোক এবং আমাদের শিশুদের জন্য এক নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে উঠুক।’

উল্লেখ্য জাপানের সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। এ সময় দুই দেশের মধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগিতা চুক্তি সই হবে। এই অর্থ দিয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটিসহ মোট পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

Loading...