দুই পুলিশের ভিডিও ভাইরাল

৮:১৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ১, ২০১৯ আলোচিত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নারী ট্রেন যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয় এক সাংবাদিক ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত ও গালাগালি করে ওই পুলিশ সদস্যরা।

কিছুক্ষণ পর ওই ট্রেন যাত্রীর সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুলিশের আচরণ ও দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন অনেকেই। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা রেলওয়ে স্টেশনে ঘটেছে।

জানা গেছে, শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ছিলো। অনেকে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য একদিন আগে লালমনিরহাট গিয়ে থাকেন। সেই কারণে বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী কমিউটার ট্রেনে যাত্রীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী কমিউটার ৬৬ নম্বর ট্রেনটি বড়খাতা স্টেশনে দাঁড়ালে ২ নম্বর বগিতে উঠতে চেষ্টা করেন হাসিনা আক্তার, ফারজানা খাতুন ও লাবন্য আক্তারসহ কিছু যাত্রী। এ সময় ওই বগির গেটে দাঁড়িয়ে থাকা পোশাকধারী ৩ পুলিশ আসন নেই বলে তাদের উঠতে নিষেধ করে।

কিন্তু পরীক্ষার কারণে তাদের যেতেই হবে বলে গেট থেকে সরে যেতে বলেন যাত্রীরা। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয় ওই পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের এ আচরণ ক্যামেরাবন্দি করতে এগিয়ে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক রবিউল হাসানের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ওই পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ওই সংবাদকর্মীকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে তাকেও মারতে আসে ওই পুলিশ সদস্যরা।

এ অবস্থায় ট্রেন ছেড়ে দিলে চলে যায় পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু ওই ট্রেনে প্রায় ৩০ জন পরীক্ষার্থী যাত্রী যেতে পারেনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক রবিউল হাসান বলেন, ট্রেনে আসন ছিলো না। তবে দাঁড়িয়ে যেতে পারতেন পরীক্ষার্থী যাত্রীরা। কিন্তু ট্রেনের গেটে তিন পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিলো। তারা কোনো যাত্রীকে উঠতে দেয়নি। যাত্রীরা উঠতে চাইলে তাদের ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করে পুলিশ সদস্যরা।

এ প্রসঙ্গে পাটগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের মাষ্টার মকছেদ বাবু বলেন, বৃহস্পতিবার পার্বতীপুরগামী কমিউটার ৬৬ নং ট্রেনটিতে কোনো পুলিশ সদস্য বুকিং বা রির্জাভ করেনি। তাই যে কোনো যাত্রী যে কোনো ট্রেনের বগিতে উঠতে পারে। তারা এভাবে বাঁধা দিতে পারে না।

এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ভিডিওটি দেখে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত করে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে প্রাথমিক তথ্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা রংপুর রেঞ্জের রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) সদস্য ছিলেন। পাটগ্রাম উপজেলা বুড়িমারী ক্যাম্পের দায়িত্ব পালন শেষে ওই ট্রেনে রংপুরে ফিরছিলো তারা।

এখানে দেখুন ভিডিও