‘রমজানের দিন আপনারা মারামারি করবেন না’ একথা বলায় শ্রমিককে কোপাল আ.লীগ নেতা!

১২:০৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ২, ২০১৯ চট্টগ্রাম

মু.ওয়াছীঊদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোক্তার হোসেন (১৮) নামে এক যুবকের মাথায় ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আ.লীগ নেতা আবু ছায়েদ সবুজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ওই যুবক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বটতলী কালামের চায়ের দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, আহত মোক্তার হোসেন উপজেলার পশ্চিম বটতলী গ্রামের সফিক আহম্মদের ছেলে ও একজন নির্মাণ শ্রমিক। অন্যদিকে অভিযুক্ত আবু ছায়েদ সবুজ একই গ্রামের মৃত চেরাজুল হকের ছেলে ও দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটনার সময় স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোরশেদ আলম ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছায়েদ সবুজের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ একটি ধারালো দা নিয়ে মোরশেদকে কুপিয়ে আহত করার চেষ্টা করে।

ঘটনাটি দেখে প্রতিবেশী যুবক মোক্তার হোসেন বলেন, ‘ভাই, রমজানের দিন আপনারা মারামারি করবেন না’। কথাটি শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই নেতার ধারালো দা’র কোপে রক্তাক্ত হন মোক্তার। এতে সহযোগিতা করেন ওই নেতার ভাতিজা ও একই এলাকার নজির আহম্মদের ছেলে মাসুদ আলম। তার মাথা, কপাল ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে স্থানীয়রা ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় মোক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, মোক্তার হোসেন নামে ওই যুবকের মাথায় ও কপালে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

রবিবার সকালে হাসপাতালে আহত মোক্তার হোসেন বলেন, মারামারি না করার অনুরোধ করায় আমার ওপর হামলা করেছে দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু ছায়েদ সবুজ। তিনি আমার মাথায় ও কপালে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়। তার ভাতিজা মাসুদ আলম স্টীলের পাইপ দিয়ে আমাকে আঘাত করে এবং গলাটিপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে।

দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপন বলেন, সবুজ অন্যায়ভাবে এই নিরীহ ছেলেটিকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। এর আগেও সে এলাকার বিভিন্ন মানুষের ওপর এভাবে হামলা করেছে বলে শুনেছি। তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।