• আজ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধান ক্রয়ে অনিয়মের কথা বলায় সাংবাদিকের সাথে ইউএনওর দুর্ব্যবহার

২:৩৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ২, ২০১৯ ঢাকা
rajbari

নিজস্ব প্রতিবেদক: একই কৃষককে তিনটি ধান ক্রয়কার্ড বিতরণের সময় সাংবাদিক কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রশ্ন করা হয় এবং কার্ডের ছবি তোলার অনুমতি চাইলে ইউএনও সেই সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে ও নানান রকম অপমানজনক আচরণ করে কথা বলতে থাকে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আজ শনিবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নে ধান ক্রয় ক্যাম্প পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হোসাইন খান। এসময় সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন খবর ৭১ প্রতিনিধি সাংবাদিক রাজিব আহমেদ। কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক ধানের নমুনা পরীক্ষা শেষে ক্রয় কার্ড বিতরণ করছিলেন।

এসময় একই কৃষক তিনটি ধান ক্রয়কার্ড নেওয়ার সময় বিষয়টি সাংবাদিক রাজিব আহমেদ ইউএনও’র দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সন্দেহজনক কার্ডের ছবি তোলার অনুমতি চান। ইউএনও মুহূর্তেই সাংবাদিক রাজিব আহমেদ এর উপর রেগে যান এবং দুর্ব্যবহার শুরু করে। তিনি ধমকিয়ে বলতে থাকেন আপনার ছবি তোলার কোন অধিকার নেই, আপনারা শুধু নেগেটিভ খবরের পেছনে লেগে থাকেন।

বার বার সাংবাদিক রাজিব আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, আমি আপনার কাছে অনুমতি চেয়েছি মাত্র। তিনি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন আপনাদের অনুমতি চাওয়ারও কোন অধিকার নেই। তিনি আরো বলেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনতে শুনতে আমি অস্থির হয়ে গেছি। তিনি সকল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা টাকাও নিবেন আবার জনপ্রতিনিধিদের পেছনেও লাগবেন। সেদিন আপনাদের একজন সাংবাদিক কে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছি। এর পর থেকে আমার কোন কাজে সাংবাদিকদের থাকতে দেবোনা।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই মাসে আগে শাহজাদপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কাছে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সরকারি নির্দেশনার চিঠি আসে। দেশের সকল প্রান্তেই ধান ক্রয় শুরু হলেও শাহজাদপুরে হচ্ছিল না। শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের একটি দল (সাংবাদিক রাজিব সহ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কাছে কারণ জানতে চান। তখন থেকেই মূলত শাহজাদপুর উপজেলায় ধান ক্রয়ের বিষয়ে অগ্রগতি আসে।

কিছুদিন আগে ইউএনও নাজমুল হোসাইন খান একটি বাড়ির বাসিন্দাদের বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে, পরে কোর্টের নির্দেশে সেই বাড়ির বাসিন্দারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পায়। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক রাজিব সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের ধারণা মূলত এই সকল ক্ষোভ থেকেই সাংবাদিক রাজিব আহমেদ এর সাথে দুর্ব্যবহার করেছে ইউএনও নাজমুল হোসাইন খান।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সভাপতি শ্রী বিমল কুন্ডু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুজ্জামান শফি এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার এই রকম আচরণ শাহজাদপুরের সাংবাদিক মহলকে আতংকিত ও চিন্তিত করেছে।