অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছে নৌযানগুলো, বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ!

২:৫৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ২, ২০১৯ ঢাকা
munsigang

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ লৌহজং(মুন্সীগঞ্জ)- পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র দু’একদিন বাকী থাকতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে শিমুলিয়া ফেরীঘাটে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো বিড়ম্বনা সহ্য করে আজ রোববার ভোররাত থেকেই এসব ঘরমুখো মানুষেরা নাঁড়ীর টানে ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে।পদ্মা পাড়ি দিতে এ সময় শিমুলিয়া লঞ্চ ও স্পীডবোট ঘাটে দীর্ঘ জনজট দেখা দেয়।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিমুলিয়া -কাঁঠালবাড়ী ও শিমুলিয়া-–মাঝিকান্দি নৌপথে সকাল পোনে ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ও বেলা ১১টা থেকে সাড়ে১১পর্যন্ত দুইদফা লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীচাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে। সকালের দিকে লঞ্চঘাটে চাপ বেশী থাকায় লঞ্চগুলোতে অভারলোডিং ছিল।তবে যাত্রীরা লঞ্চে উঠে আগেভাগে বাড়ী যেতে কোন বাধাই মানেননি। তবে দুপুরের পর থেকে এ ঘাটে অনেকটাই চাপ কম ছিল।

এদিকে ভোররাতের দিকে ফেরীঘাটে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ কিছুটা ছিল।তবে নৌপথের দূরত্ব কমে যাওয়ায় ও শিমুলিয়া ফেরীবহরে ১৮টি ফেরী সার্বক্ষণিক চলাচলের কারণে শিমুলিয়া ফেরীঘাটে এখন পর্যন্ত যানজট দেখা দিচ্ছে না।আগের দিনের মতো আজ রোববারও পারাপারের যানবাহনের অপেক্ষায় ছিল অলস ফেরীগুলো।প্রতি বছর যেখানে প্রতি ঈদে যাত্রীবোঝাই যানবাহনের ভীড়ে হিমশিম খেতে হতো শিমুলিয়া ফেরীঘাট কর্তৃপক্ষকে তার বিপরীতে সেখানে ফেরী পারাপারে আজ সকালে বাস প্রাইভেটকারসহ যানবাহনের কোন চাপই ছিল না শিমুলিয়া ঘাটে। তবে ফেরী কর্তৃপক্ষের দাবী ১৮ টি ফেরীই নৌরুটে চলাচল করায় এখানে দেখা দিয়েছে যানবাহন স্বল্পতা।

ফেরীঘাট সংশ্লিষ্ট একাধিক মহলের ধারণা আগের দিন শুক্রবার এ নৌপথে ব্যাপক চাপ দেখা দেওয়ার কারণে আজ ঘাটে তেমন চাপ নেই।ঘরমুখো অনেকেই নিজ প্রাইভেট গাড়ী না এনে বাসে করে আগভাগেই চলে গেছেন গ্রামে।আবার কেউ কেউ বিকল্প পথে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পথে ছুটছেন ঘরমুখো দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীসাধারণ।তবে আজ রোববারের অফিস শেষে ও আগামী দু’দিন পুনরায় শিমুলিয়া ঘাটে ফের ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত পুরোদমে লাগতে পারে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

শিমুলিয়া বিআইডবিউটিসির ম্যানেজার বাণিজ্য নাসির মোহাম্মদ জানান,সকাল সাড়ে ৮টার পর ফেরী পারাপারের সামান্য কিছু ট্রাক ছাড়া শিমুলিয়া ঘাটে তেমন কোন যানবাহন ছিল না।তবে ভোরের দিকে ছোট যাত্রীবাহী যানবাহনের কিছুটা চাপ ছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীদের চাপের কারণে নৌরুটের লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে লঞ্চগুলোতে ছিল যাত্রীদের আগে ওঠার প্রতিযোগীতা। প্রকারভেদে এ রুটের লঞ্চগুলোর ধারণক্ষমতা ৮৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৯৮ হলেও ঈদে যাত্রী চাপের কারণে নেয়া হয়ে থাকে ২শ থেকে আড়াই শতাধিক। এছাড়া স্পীডবোট ঘাটে যাত্রীদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। এ সময় লঞ্চের অপেক্ষায় ও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহতে হয়েছে। কেউ কেউ লঞ্চঘাটে এসে ভীড়ের কারণে ঘাটে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চে উঠতে পারছি না। তবে প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করেই যাত্রীরা লঞ্চে উঠে আগেভাগে বাড়ী যেতে কোন বাধাই মানছে না।
যাত্রীরা জানান,কাঁঠালবাড়ী থেকে আসা একটি খালি লঞ্চে ওঠে বসে রয়েছি,কিন্তু সিরিয়ালের নিয়মের কারণে সেখানেও লঞ্চস্টাফরা নামিয়ে দিচ্ছে ।

এ ব্যাপারে শিমুলিয়া নদীবন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জানান ,সকালের দিকে লঞ্চঘাটে চাপ বেশী থাকায় লঞ্চগুলোতে অভারলোডিং কিছুটা হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে ছিল।এছাড়া যাত্রীরা লঞ্চে উঠে আগেভাগে বাড়ী যেতে কোন বাধাই মানেননি।তবে দুপুরের পর থেকে ঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান।

এদিকে যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন স্বল্পতার কারণে ঢাকা মাওয়া শিমুলিয়া রুটের গুলিস্তান থেকে সিটিং সার্ভিস ও লোকাল পরিবহনগুলোতে নির্ধারিত বাস ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।সকালের দিকে যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন স্বল্পতার কারণে ঢাকা মাওয়া শিমুলিয়া রুটের সিটিং সার্ভিস ও লোকাল পরিবহন গুলোতে পরিবহনগুলোতে যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে আসছিল।এ সময় নির্ধারিত বাস ভাড়া ৭০টাকার স্থলে ১০০/১৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন ।

ঢাকা -মাওয়া- শিমুলিয়া মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের একটি বাসে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় শিমুলিয়া লঞ্চঘাটে পৌছাঁন পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার বীরপাশা গ্রামের লঞ্চযাত্রী আবিদ হাসান।লঞ্চঘাটে এ প্রতিবেদককে তিনি অভিযোগ করে বলেন ,টিকিটে ৭০ টাকা লেখা রয়েছে অথচ গুলিস্তান থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছে ১৫০ টাকা। সিটে বসা সব যাত্রী ছাড়াও বাসে দাড়ানো যাত্রীদের কাছ থেকেও ১৫০ টাকা নেয়া হয়েছে। ঈদ এলেই এ রুটের পরিবহনগুলো এ ধরণের নৈরাজ্য শুরু করলেও দেখার কেউ নেই বলে তিনি আরো অভিযোগ করেন।