লুঙ্গি খুলে ফেলবেন বলায় আইনজীবী আবিদাকে হত্যা করে ইমাম!

৩:১৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুন ৩, ২০১৯ আলোচিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের বড়লেখার চাঞ্চল্যকর আইনজীবী আবিদা সুলতানাকে নিজ হাতে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বাড়ির ভাড়াটিয়া ও ইমাম তানভীর আলম।

তানভীর বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আবিদা হত্যার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে তানভীর জানান, আইনজীবী আবিদা কয়েকদিন থেকে বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ দিতে থাকেন। ঘটনার দিন এ নিয়ে আবিদা ও তানভীরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আবিদা রাগান্বিত হয়ে তানভীরের লুঙ্গি খুলে ফেলার কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবিদাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে পানির ফিল্টারের পাথরের ঢাকনা দিয়ে আঘাত করে আবিদার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়ে শনিবার বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রাশেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, আবিদা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। রিমান্ডে থাকা ইমাম তানভীর হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছেন। এই হত্যার সাথে শুধু তানভীরই জড়িত।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, ঘটনার দিন ২৬ মে তানভীর বাড়িতে একা ছিলেন। তার মা ও স্ত্রী বাইরে ছিলেন। আর ধর্ষণেরও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ওই আইনজীবীর পৈতৃক বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ইমাম তানভীর আলম ও তার পরিবার। তানভীরের কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছাড়তে বলছিলেন আবিদা। কিন্তু তানভীর কিছুতেই বাড়ি ছাড়ছিলেন না। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ঘটনার দিন তানভীরের সঙ্গে আবিদার বাকবিতন্ডা হয়। পরে তানভীর ক্ষুব্ধ হয়ে আবিদাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে পানির ফিল্টারের পাথরের ঢাকনা দিয়ে আঘাত করে আবিদার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

রাশেদুল ইসলাম বলেন, আবিদাকে আঘাত করার পর শরীর থেকে কাপড় খুলে ফেলেন তানভীর। তবে ধর্ষণের কোনো আলামত তদন্ত ও মেডিকেল পরীক্ষা কিংবা তানভীরও স্বীকারোক্তি দেননি। এ ঘটনার সাথে তার পরিবারের আর কেউ জড়িত নন। ২৬ মে বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আবিদাকে হত্যা করা হয়।

বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির মাধবগুল গ্রামের মরহুম আব্দুল কাইয়ুমের তিন মেয়ে। মেয়েদের মধ্যে আবিদা সুলতানা (৩৫) সবার বড়। তিনি মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। আবিদার স্বামী মো: শরিফুল ইসলাম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি স্বামীর সাথে মৌলভীবাজার শহরে বসবাস করতেন। ছুটির দিনে প্রায়ই পৈতৃক বাড়ি দেখাশোনা করতে যেতেন আবিদা। পৈতৃক বাড়িতে চার কক্ষবিশিষ্ট ঘরের দুই কক্ষে আবিদা সুলতানা ও তার বোনেরা বেড়াতে গেলে থাকেন। বাকি দুটোতে ভাড়া থাকতেন তানভীরের পরিবার। তিনি তাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম।

আবিদা সুলতানা হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন তানভীরের ছোট ভাই আফছার আলম (২২), স্ত্রী হালিমা সাদিয়া (২৮) এবং মা নেহার বেগম (৫৫)। তাদের স্থায়ী ঠিকানা সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ছিল্লারকান্দি। মামলার পরই তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে গত ২৮ মে দুপুরে বড়লেখার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হরিদাস কুমারের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তানভীর আলমের ১০ দিন এবং তার স্ত্রী সাদিয়া ও মা নেহার বেগমের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঘটনার পর থেকে তানভীরের ছোট ভাই আফছার আলম পলাতক রয়েছেন।