‘ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার’

১:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ৩, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর :: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ হবে এবার’- বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার। কারণ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। একদলীয় বাকশালী সরকারের কবলে পড়ে দেশ এখন এক চরম নৈরাজ্যজনক অবস্থার মধ্যে নিপতিত। তাই বেশীর ভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই। এছাড়াও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে ঘরে কোন ঈদ আনন্দ নেই।

সোমবার (৩ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেশীর ভাগ মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই সেটি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। সুতরাং তাদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকরা এখনও বেতন-বোনাস পাননি। তাদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। বিদেশ থেকে অনেক প্রবাসীর টাকা আসতো বাংলাদেশে, এখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং অন্যান্য দেশ থেকে কাজ না থাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার। তাদের কোন কাজ নেই, আয়ও নেই। তাদের ঘরেও ঈদের আনন্দ নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান দু:শাসনের কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুনের শিকার, নারী-শিশুরা খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার, তাদের পরিবারেও ঈদের আনন্দ নেই। সুতরাং স্বস্তির ঈদ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, অনুশোচনাহীনতা ও নির্যাতিত মানুষদের প্রতি ইতিহাসের সেরা তামাশা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, র‌্যাব এর মহাপরিচালক বলেছেন-গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৩০০ জন পলাতক রয়েছেন। তিনি আরও বলেন-২০১৬ সালের ঐ হামলার পর গ্রেফতারকৃত ৫১২ জন জঙ্গির মধ্যে ৩০০ জন জামিনে রয়েছেন। তিনি বলেছেন-জামিনে থাকা জঙ্গিদের মধ্যে অধিকাংশ এখন পলাতকর‌্যাব এর মহাপরিচালকের বক্তব্য শুনে সারাজাতি বিস্মিত ও স্তম্ভিত। জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কিভাবে? কারণ আমরা জানি নিম্ন আদালত সম্পূর্ণরুপে সরকারের করায়ত্ত্বে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউই নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান না। তাহলে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিম্ন আদালত থেকে কিভাবে ভয়ংকর জঙ্গি হামলায় জড়িত জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে? সরকার জঙ্গি দমনের নামে যা করছে তা পরিকল্পিত নাটক কি না তা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিন থেকে সংশয় রয়েছে। র‌্যাবের মহাপরিচালকের বক্তব্যে সেই সংশয় আরও গভীর থেকে গভীরতর হলো। আসলে জঙ্গি দমনের নামে কোন খেলাধুলা চলছে কি না সেই প্রশ্নও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল।

একে খন্দকারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সত্য ও ইতিহাস এখন বাকশালী হুকুমের কাছে বন্দী। আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। বই প্রকাশের ৫ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং বর্ষিয়ান সাবেক মন্ত্রীকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে সেটি জনগণের কাছে খুবই পরিস্কার।