‘জয় শ্রীরাম’-এর পাল্টা হিসেবে ভারতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পরিকল্পনা তৃণমূলের!

১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৪, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাম রাজনীতির পালটা টোটকা বের করার মরিয়া চেষ্টা করছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দিন দুই আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে দশ লক্ষ ‘জয় শ্রীরাম’ লিখে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ।

এবার তাঁকে পালটা ‘জয় হিন্দ জয় বাংলা লিখে’ পাঠানোর পরিকল্পনা শুরু করেছে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশ। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হয়েছে অর্জুন সিংয়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই নম্বরে জয় হিন্দ-জয় বাংলা লিখে পাঠানোর। যদিও, এসব কিছুই সরকারিভাবে নয়।

লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের দেখলেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলছেন বিজেপি সমর্থকরা। সাধারণ তৃণমূল নেতাকর্মীরা তো বটেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে একাধিকবার। দিন কয়েক আগেই ভাটপাড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেয় বিজেপি সমর্থকরা। যা শোনামাত্রই মেজাজ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়া হয়েছে। যা রীতিমতো অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের জন্য। অনেক ভেবেচিন্তে শাসক শিবিরের নেতাকর্মীরা এবার জয় শ্রীরামের পালটা স্লোগান তৈরি করেছে। যাতে একই সঙ্গে রয়েছে ভারতীয় এবং বাঙালি আবেগ। ঠিক হয়েছে, ‘জয় শ্রীরামে’র বদলে তৃণমূল বলবে ‘জয় হিন্দ-জয় বাংলা।’

এদিকে, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শুনে মমতার রেগে যাওয়ার ঘটনাকে হাতিয়ার করে তাঁকে হিন্দু বিরোধী প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে বিজেপি। বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং দিন দুই আগেই জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ। সুস্থতার জন্য তাঁর বাড়িতে দশ লক্ষ ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা পোস্টকার্ড পাঠানোর পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। অর্জুনের সেই পরিকল্পনার পালটা তাঁকে হাজার হাজার জয় হিন্দ-জয় বাংলা লিখে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে তৃণমূল।

ইতিমধ্যেই তৃণমূল সমর্থকদের বিভিন্ন পেজ, গ্রুপের মাধ্যমে অর্জুন সিংয়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হচ্ছে। আর তাতেই সমর্থকদের জয় হিন্দ-জয় বাংলা লিখে পাঠাতে অনুরোধ করা হচ্ছে। যদিও, সরকারিভাবে এই পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি রাজ্যের শাসকদল। পুরোটাই হচ্ছে বেসরকারিভাবে। সংবাদ প্রতিদিনের খবর।