‘নিখোঁজ’ ওসি মোয়াজ্জেমের পর এবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও!

১:১০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৪, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

ফেনী প্রতিনিধি :: সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। অনেকটা ‘নিখোঁজ’ রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি। সাত দিন আগে আদালত থেকে ফেনীর পুলিশ সুপারের ঠিকানায় পরোয়ানাটি পাঠানো হলেও তিনি তা এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন।

গত ২৭শে মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়। ওইদিনই আদালত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু সাত দিন পরও সেই পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছায়নি বলে দাবি পুলিশের।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন বলেন, চিঠি (চিঠির স্মারক নম্বর ৬৬৯) পৌঁছাতে একদিন, বড়জোর দুই দিন লাগতে পারে। এতদিন লাগার কোনো কারণ নেই। পরোয়ানা যেদিন জারি হয়েছে, সেদিনই ফেনীর পুলিশ সুপারের ঠিকানায় সেটি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ফেনীর ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান জানান, পরোয়ানার চিঠি তার দপ্তরে পৌঁছায়নি। তিনি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।

সোনাগাজী মডেল থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈনুদ্দীন আহমেদ জানান, তার থানায় সাবেক ওসির বিরুদ্ধে জারি করা কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তিনি পাননি।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সাময়িক বরখাস্তের পর রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত আছেন। পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, রংপুর রেঞ্জেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছায়নি।

তবে তার অবস্থান বর্তমানে কোথায়, সে সম্পর্কে ফেনী বা রংপুর রেঞ্জ কোনো ধরনের তথ্য দিতে পারেনি। এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেনকে তার মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সূত্র বলেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন মামলার কাজে ঢাকায় আছেন। গত ২৯শে মে আইনজীবী সালমা সুলতানার মাধ্যমে তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদনও করেছেন।

মামলার বাদী সৈয়দ সাইয়েদুল হক বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনকে পুলিশ সদস্য নয়, আসামি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ যত সময় নেবে, বাহিনীটির প্রতি মানুষের আস্থা তত কমতে থাকবে। তিনি জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পর জামিন আবেদনের সুযোগ নেই। আর জামিন আবেদনের শুনানির সঙ্গে গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক নেই।