এ যেন ভারতের রসু খাঁ! মেয়েদের খুন করে শারীরিক সম্পর্কে জড়াত কামরুজ্জামান!

২:১৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৪, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার চাঁদপুরের রসু খাঁকে মনে আছে? চাঁদপুরের মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খাঁ ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে এক সময় সিরিয়াল কিলারে পরিণত হয়। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চিত্র বেরিয়ে আসে। নিজের মুখে স্বীকার করে ১১ নারী হত্যার কথা। টার্গেট ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর।

রসু খাঁ ভালোবাসার অভিনয় করে মেয়েদের ঢাকার সাভার ও টঙ্গী এলাকা থেকে চাঁদপুরে এনে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করত। হত্যার শিকার ওইসব হতভাগ্য মেয়ের অধিকাংশরই সঠিক নাম-ঠিকানা বা পরিচয় আজও জানা যায়নি।

তবে টঙ্গীর গার্মেন্ট কর্মী শাহিদা বেগম হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এবার তেমনই এক সিরিয়াল কিলারের খোঁজ মিলেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। রসু খার মতো মহিলাদের প্রতি তারও ছিল প্রচণ্ড ঘৃণা। আর তার জেরেই সে করে গিয়েছে একের পর এক খুন। নেপথ্যে ছিল প্রেম। প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব। তারপর বেশ কিছুদিন প্রেম। তারপর প্রেমিকাকে খুন। আপাতত সিনেমার চিত্রনাট্য বলে মনে হলেও আসলে এটাও বাস্তব ঘটনা।

গত ৩ মাস ধরে কুখ্যাত এই সিরিয়াল কিলারকেই খুঁজে চলেছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার পুলিস। বর্ধমান রেঞ্জের পুলিশ এই ব্যক্তির খোঁজে রীতিমতো তত্‍পরতা দেখিয়েছে। তদন্তে নামার আগে পুলিশের কাছে খবর আসতে থাকে এলাকা জুড়ে একের পর এক খুন হচ্ছে। খুনের চরিত্র মিলিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি খুনের নিশানা কোনও না কোনও মহিলা। উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভারতীয় পুলিশ সূত্রে খবর, কালনায় পর পর ৬ নারীকে খুন করা হয়েছে। আর এই খুনের খলনায়ক সিরিয়াল কিলার কামরুজ্জামান সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, মুর্শিদাবাদ থেকে এসে কালনায় থাকতে শুরু করেছিল সে। পেশা বলতে ছিল ভাঙারির ব্যবসা। আটককৃত মোটরবাইক পছন্দ করত। তবে মহিলাদের বেছে বেছে কেন খুন?

পুলিশের দাবি, মহিলাদের ওপর কোনও সুপ্ত ঘৃণা থেকেই একের পর এক খুন করে গিয়েছিল কামরুজ্জামান। প্রতিটি খুনই সে গলায় সোনার চেনের ফাঁস দিয়ে ঘটিয়েছে। আর খুনের পর মহিলাদের মূল্যবান কিছু জিনিস লুট করে পালাত কামরুজ্জামান।

কিন্তু পুলিশের চোখ কপালে ওঠে অন্য জায়গায়। কারণ, খুনের পর মৃতদেহের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াত কামরুজ্জামান। আর মূল্যবান যা কিছু লুট করতো সেটাকে জয়ের স্মারক হিসাবে বাড়িতে রেখে দিত সে। এটাকে মানসিক রোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের দাবি, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা কামরুজ্জামান, পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে এসে বসবাস শুরু করে। তার মুর্শিদাবাদের বাড়িতে স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে সংসার ছিল। আপাতভাবে শান্ত কামরুজ্জামান কীভাবে এমন একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটাতে পারে তা নিয়ে হতবাক এলাকাবাসীরা।

পুলিশে কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে খুব পরিপাটি জামা কাপড়ের পাশাপাশি হেলমেট পরে ঘুরে বেড়াত কামরুজ্জমান সরকার। সেটা আঁচ করতে পেরেই কালনা পুলিশ কঠোর চেকিং শুরু করে। আর রবিবার রাতে চিরুণী তল্লাশীর সময়ই ধরা পড়ে যায় রোহমর্ষক এই খুনী।