শিমুলিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, দুর্ভোগে ঈদে ঘরমুখো হাজার হাজার যাত্রীরা

২:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৪, ২০১৯ আলোচিত

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি- বৈরী আবহাওয়া আর দফায় দফায় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই শেষ মুহুর্তে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে শিমুলিয়া ফেরীঘাটে। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকী থাকলেও হাজারো বিড়ম্বনা সহ্য করে আজ মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই এসব ঘরমুখো মানুষেরা নাঁড়ীর টানে ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। লক্ষ্য একটাই প্রিয়জনদের মুখ দেখার সাথে সাথে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করা।

তবে এবার ঈদে ভরা বর্ষা হওয়ায় বাধ সেজেছে বৈরী আবহাওয়া। তবুও পদ্মা পাড়ি দিতে হবে। ঘরমুখো এসব যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহালেও চোখের সামনে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি আর ১২০০ মিটার বসানো স্প্যান দেখে আনন্দিত তারা। এ সময় শিমুলিয়া ফেরীঘাট, লঞ্চ ও স্পীডবোট ঘাটে যাত্রীবাহী যানবাহনসহ বিপুল যাত্রীর চাপ দেখা দেয়।  তাক্ষণিকভাবে ফেরী পারাপারের যাত্রীবাহী বাড়তি পরিবহনের চাপ দেখা দেওয়ায় সকাল থেকেই ৩ টি ঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিমুলিয়া ফেরীঘাটে ১ নং ,২নং ও ৩ নং ফেরীঘাটে ফেরী পারাপারের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকে দীর্ঘ সময় শত শত যাত্রীবাহী পরিবহনকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ফেরীতে ওঠার জন্য। ঈদের আগের দিনটিকে ভেবে অসংখ্য বাস প্রাইভেটকারসহ শত শত ছোট গাড়ী হুমড়ি খেয়ে পড়ে ফেরীঘাটে।

এ সময় যাত্রীবোঝাই যানবাহনের ভীড়ে হিমশিম খেতে হয়েছে শিমুলিয়া ফেরীঘাট কর্তৃপক্ষকে। রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার অধিকাংশ যানবাহনই ফেরী পারপারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। ফেরীঘাটে ১৮ টি ফেরী চলাচল করলেও বেলা ১২টা পর্যন্ত ফেরীঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় কয়েক শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ লাইনে থাকে।

শিমুলিয়া ঘাট এলাকা থেকে মাওয়া চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৩কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়ে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। এ সময় আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে শিমুলিয়া ফেরী বহরে রো-রো ফেরী শাহ পরাণ, এনায়েতপুরী ও ফেরী রায়পুরাসহ ৩টি ফেরী অতিরিক্ত যোগ হওয়ায় মোট ১৮টি ফেরী চলাচল করছে এ নৌরুটে। তবে যাত্রীবোঝাই যানবাহনের ভীড়ে হিমশিম খেতে হতো শিমুলিয়া ফেরীঘাট কর্তৃপক্ষকে।

শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী জানান, ঈদ উপলক্ষে এখানে দুইটি রো রো ও একটি ডাম্পু ফেরীসহ মোট ৩টি ফেরী অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়ছে।তবে মৌসুমের স্বভাবগত কারণে একমাত্র প্রধান সমস্যা হতে পারে বৈরী আবহাওয়া আর পদ্মার উত্তাল স্রোতের রূঢ়তা। তবে সার্বক্ষণিকভাবে এ নৌরুটে মোট ১৮টি ফেরী চলাচল করলেও মঙ্গলবার যানবাহনের চাপ বেশী হওয়ায় দুপুর পর্যন্ত যানবাহনের লাইন নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল।

অপরদিকে সকাল থেকে শিমুলিয়া -কাঁঠালবাড়ী-কাওড়াকান্দি, শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে লঞ্চ, ট্রলার ও স্পীডবোটসহ প্রতিটি নৌযানে ছিল যাত্রীদের আগে ওঠার প্রতিযোগীতা। এছাড়া স্পীডবোট ঘাটে যাত্রীদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। এ সময় লঞ্চের অপেক্ষায় ও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কেউ কেউ লঞ্চঘাটে এসে ভীড়ের কারণে ঘাটে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চে উঠতে পারছি না। তবে প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করেই যাত্রীরা লঞ্চে উঠে আগেভাগে বাড়ী যেতে কোন বাধাই মানছে না। যাত্রীরা কোন বাধাই না মেনে এসব নৌযানগুলোতে অভারলোডিং ভাবে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।

অপরদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিআইডব্লিউটিএ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস সেনা ব্রিগেড, থানা পুলিশ, ট্রাফিক, নৌপুলিশসহ একাাধিক বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখলেও অনেক যাত্রীরা লঞ্চে উঠে আগেভাগে বাড়ী যেতে কোন বাধাই মানেননি। তবে দুপুরের পর থেকে এ ঘাটে অনেকটাই চাপ আরো বাড়তে ছিল।

এ ব্যাপারে শিমুলিয়া নদীবন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, সকালের দিকে লঞ্চঘাটে চাপ বেশী থাকায় লঞ্চগুলোতে অভারলোডিং কিছুটা হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। এছাড়া যাত্রীরা লঞ্চে উঠে আগেভাগে বাড়ী যেতে কোন বাধাই মানেননি।

এদিকে যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন স্বল্পতার কারণে ঢাকা মাওয়া শিমুলিয়া রুটের গুলিস্তান থেকে সিটিং সার্ভিস ও লোকাল পরিবহনগুলোতে নির্ধারিত বাস ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। সকালের দিকে যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন স্বল্পতার কারণে ঢাকা মাওয়া শিমুলিয়া রুটের সিটিং সার্ভিস ও লোকাল পরিবহন গুলোতে পরিবহনগুলোতে যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে আসছিল। এ সময় নির্ধারিত বাস ভাড়া ৭০টাকার স্থলে ১০০/১৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।

ফরিদপুরের বারেক বেপারী অভিযোগ করে বলেন ,টিকিটে ৭০ টাকা লেখা রয়েছে অথচ গুলিস্তান থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছে ১৫০ টাকা।ঈদ এলেই এ রুটের পরিবহনগুলো এ ধরণের নৈরাজ্য শুরু করলেও দেখার কেউ নেই বলে তিনি আরো অভিযোগ করেন।