• আজ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ে ‘আড়ং’

১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মার্কেট গুলোতে যখন উপচে পরা ভিড় ঠিক তখনই উলটো চিত্র ছিল দেশীয় পণ্যের ব্রান্ড আড়ংয়ে। হঠাৎ করেই ক্রেতা শূন্যতায় পড়ে আড়ং। তবে আড়ং এর আশেপাশে দোকানগুলোতে স্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গত মঙ্গলবার (৪ জুন) রাজধানীতে আড়ংয়ের কয়েকটি শাখা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে ব্র্যান্ডটি নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়। আড়ংইয়ের পণ্য বর্জনের ঘোষণাও দিতে দেখা গেছে অনেককে।

সেই সমালোচনারর জেরেই ঈদের একদিন আগে দেশের এই নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে ক্রেতা কম গেছে বলে মনে করছেন সচেতনরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির সাইন্সল্যাব এলাকায় আড়ংয়ের শাখায় গেলে দেখা যায়, পুরো তিন তলায় ৫ থেকে ৬ জন ক্রেতা। তবে পাশেই অন্য দোকানগুলোতে বেশ ভিড়।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের আড়ং শাখায় গিয়েও একই চিত্রের দেখা মিলে। সেখানেও ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের আড়ং শাখায় কয়েকজন ক্রেতাকে আড়ংয়ের পণ্য কিনতে দেখা গেছে। তবে সেখানে উপস্থিত এক ক্রেতা বলেন, নিউজে দেখেছি কম দামি পাঞ্জাবির গায়ে বেশি দামের ট্যাগ দিয়েছে আড়ং। এ ঘটনায় আমরা এখন আর তেমন বিশ্বাস রাখতে পারছি না। তাই চয়েজ পাল্টাতে হলো এবাবের ঈদে।

অপর এক ক্রেতা জানান,‘আমি আড়ং থেকেই কাপড় কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই ঘটনার পরে আর কিনব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেখতে এসেছিলাম মানুষ কেমন প্রতিবাদ করছে।’

সাইন্সল্যাবের আড়ং শোরুম থেকে পণ্য কিনে বের হচ্ছিলেন একজন। তিনি হেসে বলেন, ‘এই ভিড়ের মধ্যে আর রোজা রেখে এতো ঘোরাঘুরি প্রায় অসম্ভব। ওই ঘটনা জানার আগে মেয়ে একটা জামা পছন্দ করে গিয়েছিল। তার জেদের কারণেই কিনতে এসেছি। না হলে আসতাম না।’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আড়ং অনেক বেশি দাম নেয় জেনেও অনেকে এখানে আসেন। তবে কাল যে ঘটনা ঘটেছে। এরপরে আড়ং বর্জন করা উচিত।’

তবে আড়ংয়ের পক্ষ নিয়ে নিজেদের অভিমত জানিয়েছেন কেউ কেউ। এমনই একজন বলেন, এখানে আড়ংয়ের কোনো দোষ ছিল না। ব্যাপারটা একটা ভুল মাত্র। তবে এ নিয়ে যেসব বিতর্ক, সমালোচনা হয়েছে এর সবই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি।

তিনি যুক্তি দেখান, আড়ং তো আর কাউকে বদলি করে দিতে পারে না। এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করেছেন। তাই আড়ংয়ের চেয়ে তাদের দায় বেশি।

উল্লেখ্য, এর আগে আড়ংয়ের উত্তরা শাখায় একই পোশাক এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে, প্রায় দ্বিগুণ দাম বাড়ানোর অভিযোগে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা আউটলেটটি ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আড়ংয়ের আউটলেটটি বন্ধ ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পরই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলির আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে তাকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুল।