সংবাদ শিরোনাম
বেনাপোলে নারীর ব্যাগ থেকে ৪০হাজার ৪শ ইউএস ডলার ও ১৩ লাখ ভারতীয় রুপি উদ্ধার | কয়েক দফা ধর্ষণে ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা , শিক্ষক গ্রেফতার | খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলবে বিএনপি | পরকীয়ার টানে পালিয়েছে স্ত্রী, ক্ষোভে শ্যালিকাকে পাঁচমাস ধরে ধর্ষণ! | ফরিদপুরে বন্যায় রাস্তাঘাটসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যপক ক্ষতি | আবার ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাকিব | রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার মটরসাইকেল মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ৬ | কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পেলেন মাশরাফি | সাতক্ষীরায় খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ | সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ঐতিহ্য ‘ভাইয়াফি’ কুস্তি খেলা |
  • আজ ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যশোরে ১৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান, উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা

১২:১৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, জুন ৯, ২০১৯ খুলনা
class

জাহিদ হাসান,যশোর প্রতিনিধি: দেয়ালের পলেস্টার খসে খসে পড়ছে। টিনের চাল ভেঙ্গে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই বৃষ্টি জমে যায় ক্লাসে। বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে টিনের চাল। যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বিকল্প পাঠদান ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নেই শ্রেণীকক্ষে পর্যপ্ত আলো-বাতাস। আবার স্বাস্থ্যসস্মত টয়লেটের ব্যবস্থা নেই।এমন অবস্থা শুরু নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয়। এ জেলার মোট ১হাজার ২শত ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১শত ৪৭টি বিদ্যালয়ের চেহেরা একই।

নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন,বিদ্যালয়টি ১ম ভবন ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৯৫ সালে দেয়াল করে টিনের চালা দেওয়া হয।সেই টিনে মরিচা ধরেছে।কোথাও কোথাও টিনে ফুঁটা হয়েছে। বাঁশদিয়ে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যালয়ের ৩শত ১০জন শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে পাঠদান। বিভিন্ন সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোন সুফল মেলেনি।

এরকম একই অবস্থা যশোর শহরের ঘোপ সেবা সংঘ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের ভবনে দেখা দিয়েছে পাটল। পলেস্টার খসে পড়ছে।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাঈদা ইয়াসমিন বলেন,বিকল্প কোন ভবন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চালানো হচ্ছে পাঠদান। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। তিনি আরো বলেন,উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করেছি।

এমন একই চিত্র জেলার ১শত ৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়েল। দ্রুত সংস্কার না হওয়ার ফলে যেমন একদিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান দিতে ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা এমনটাই মনে করছে সংশিষ্টরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে,জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে শার্শা উপজেলাতে। এ উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হলো,উলাশী,শিববাস শালকোনা,নাভারণ রেলবাজার,বালুন্ডা,সুবর্ণখালি,বসতপুর,খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।সদর উপজেলাতে ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।তার মধ্যে টি.কে.জী.সম্মিলনী বিদ্যালয়,রামকৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যালয়,সেবাসংঘ স্কুল,দেয়াড়া স্কুল ও চাউলিয়া স্কুল। অভয়নগর উপজেলাতে ৩টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।তার মধ্যে পুড়াটাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কেশবপুর উপজেলাতে ৪টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে গৌরীঘোনা ইন্দ্রমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

চৌগাছা উপজেলাতে ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে। তার ভিতর হোগলাডাঙ্গা,পাতিবিলা,বল্লভপুর রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝিকরগাছা উপজেলাতে ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে ডহরমাগুরা ,নবগ্রাম,টাত্তরা ,দোস্তপুর,দেউলি নাভারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলাতে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।তার মধ্যে বহরমপুর,করিমপুর,পি.টি.এম,দশপাখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। মনিরামপুর উপজেলাতে ২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।তার মধ্যে উত্তরপাড়া,সুবলকাঠি,ভোজগাতি,লাউলি,বাটবিলা,মদনপুর,কুচলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন,যশোর জেলায় ৮টি উপজেলার ১শত ৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নত করা হয়েছে। এসকল বিদ্যালয়ে বিকল্প কোন ভবন না থাকায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস নিচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়ের নির্দেশনায় ইতিমধ্যে এই তালিকাটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়ে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ২০১৯/২০ অর্থবছরের প্রথমদিকে এই ভবণগুলো পুনঃনির্মান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।