সংবাদ শিরোনাম
মহিলাকে রাম দা দেভিয়ে ফেঁসে গেলেন যুবলীগ নেতা! | মেয়ের বাড়িতে মিলিত হতে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ল যুবক! | ঘরের দরজা খুলে গৃহবধূর মুখ চিপে চারজন মিলে পালাক্রমে গনধর্ষণ! | ১০ বছরের শিশুকে সুপারি বাগানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালাল রিক্সা চালক! | গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অশ্লীল নৃত্য ও মদের আসরের প্রতিবাদ করায় প্রবাসীকে পিটিয়ে হত্যা! | ভারতের কাছে পাকিস্তানের লজ্জার হার! | আমেরিকার ঘুম হারাম করতে অবাক করা খবর দিলেন এরদোগান! | জাদুর খেলা দেখাতে গিয়ে মাঝনদীতে ‘ভ্যানিস’ জাদুকর! | মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ও দক্ষতা বিবেচনায় পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর | রাজবাড়ীতে ইউপি চেয়ারম্যান কালাম মৃধাকে কুপিয়ে যখম |
  • আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ওসির ‘পালিয়ে’ যাওয়ার খবর আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

৩:২৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুন ৯, ২০১৯ জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- নুসরাত হত্যাকান্ডে বিতর্কিত ভূমিকার জন্যে সমালোচিত সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই পালিয়ে যাওয়ার যে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, এই ঘটনায় নুসরাত হত্যাকান্ডে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক, যা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটা রীতিমতো অশনিসংকেত।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে আমরা জেনেছি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গত ২৭ মে পরোয়ানা জারির পর তা ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয় হয়ে রংপুর রেঞ্জে পৌঁছাতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যায়। এখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি। এই সুযোগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ‘পালিয়ে গেলেন’ বলা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে যেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া আটক করাই স্বাভাবিক, সেখানে বহুল আলোচিত একটি মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে এধরণের দৃশ্যমান ব্যর্থতার ফলে যৌক্তিকভাবেই নুসরাত হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”

এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসির অব্যহতিও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “নুসরাত হত্যাকান্ডকে ‘আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’ এবং ‘হত্যাকারীদের সুরক্ষা প্রদানে যোগসাজশের’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও অভিযোগপত্রে তাকে অব্যহতি দেওয়ার কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ রয়েছে কি না, বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হওয়ায় তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে কি না আমরা সেই প্রশ্ন তুলেছিলাম। এখন তার পালিয়ে যাওয়ার খবরে আমাদের সেই আশঙ্কা আরো জোরালো হলো। ঘটনাপ্রবাহ থেকে তাকে কার্যত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্ন উঠা খুবই স্বাভাবিক।”

নুসরাত হত্যাকান্ডে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আবারও বিচার বিভাাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলছেন, “দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা গভীরতম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমন অবস্থায় পুলিশ বাহিনীর কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ভূলুণ্ঠিত হবে। তাই ওসি মোয়াজ্জেমকে দ্রুত আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি নুসরাতের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের বিকল্প নেই।”