সংবাদ শিরোনাম
বেনাপোলে নারীর ব্যাগ থেকে ৪০হাজার ৪শ ইউএস ডলার ও ১৩ লাখ ভারতীয় রুপি উদ্ধার | কয়েক দফা ধর্ষণে ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা , শিক্ষক গ্রেফতার | খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলবে বিএনপি | পরকীয়ার টানে পালিয়েছে স্ত্রী, ক্ষোভে শ্যালিকাকে পাঁচমাস ধরে ধর্ষণ! | ফরিদপুরে বন্যায় রাস্তাঘাটসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যপক ক্ষতি | আবার ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাকিব | রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার মটরসাইকেল মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ৬ | কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পেলেন মাশরাফি | সাতক্ষীরায় খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ | সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ঐতিহ্য ‘ভাইয়াফি’ কুস্তি খেলা |
  • আজ ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বান্ধবীর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দুই তরুণীর আপত্তিকর ছবি তুলে রাখা হল!

৩:১৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুন ১০, ২০১৯ অপরাধ

বাগেরহাট প্রতিনিধি :: বাগেরহাটের শরণখোলায় ঈদে বান্ধবীর বাড়ি বেড়াতে এসে শ্লীলতাহানী ও মারধরের শিকার হয়েছে পিংকি (১৯) ও হাফিজা (১৫) নামের দু’বান্ধবী। এদের মধ্যে পিংকি আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। এ সময় জোরপূর্বক তাদের আপত্তিকর ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় হামলাকারীদের বাঁধা দিলে তারা অপর বান্ধবী বেবী আক্তার, তার পিতা, মাতা ও ভাবীসহ মোট ১১জনকে মারধর করে আহত করে। এদের মধ্যে পিংকি, হাফিজা ও সুমি আকতারকে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও বেবীর পিতা মোশাররফ হোসেন বলেন, তার মেয়ে বেবী আকতার ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি গার্মেন্টেসে চাকুরী করার সুবাদে ওই এলাকার অপর চাকুরিজীবী পিংকি আকতার ও হাফিজা আকতার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একত্রে বসবাস করেন। ঈদে পিংকি ও হাফিজা বেবীর সাথে তার গ্রামের বাড়ি মধ্য খোন্তাকাটায় বেড়াতে আসেন।

এসময় এলাকার বখাটে জসিম উদ্দিন ও সোহেলের নেতৃত্বে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম দর্জি, মিজান সরদার, ইয়াকুব মিস্ত্রি, স্থানীয় ইউপি সদস্য রোকেয়া বেগম ও গ্রাম পুলিশ ছগির হোসেনসহ ১০/১২ জনের একটি দল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মোশারেফ হোসেনের বাড়িতে যান। পরে পিংকি ও হাফিজাকে নষ্টা মেয়ে আখ্যা দিয়ে টেনে হিচড়ে খোন্তাকাটা বাজারের আনসার ও ভিডিপি ক্লাবে আটকে রাখে।

পরে ওই বখাটেরা ক্লাবের দরজা জানালা বন্ধ করে তাদের মারধর ও শ্লীলতাহানী ঘটায়। এসময় হাফিজা ও পিংকির আপত্তিকর ছবি তুলে ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করা হয়। বিষয়টি মোশাররফ হোসেন শরণখোলা থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে এবং শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রোকেয়া বেগম নীজেকে নির্দোষ দাবী বলেন, জসিম ও সোহেল শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে এবং আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি থাপ্পর দিয়েছি। এছাড়া গ্রামপুলিশ ছগির লাঠিচার্জ করেছেন।

অপরদিকে, ঘটনার নেতদৃত্বদানকারী জসিম বলেন, নুরুল ইসলাম ও রোকেয়া দু’জনে তাদেরকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান এবং আমরা কোন টাকা দাবী করিনি। তবে, নুরুল ইসলাম ওদের কাছে ৫ হাজার টাকা দাবী করেছিলেন।

তবে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান জমাদ্দার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এনামুল জমাদ্দার কবির ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম অপু মারধর ও শ্লীলতাহানীর কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

মোশারেফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খাঁনের লোক বিধায় এখনও কোন বিচার হয়নি।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যান মিমাংসার কথা বলে উভয় পক্ষের দায়িত্ব নেন। যদি উপযুক্ত বিচার না হয় তবে এজাহার দিলে মামলা দায়ের করা হবে।