দিন শেষ পেট্রল-ডিজেলের, আসছে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি!

৩:৪১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুন ১০, ২০১৯ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ডেস্ক :: বিজ্ঞান কি না পারে! পৃথিবীতে জ্বালানির উত্‍স ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে। বিকল্প উত্‍স কি হতে পারে সেই নিয়ে বহুদিন ধরেই চলছে গবেষণা। সেই বিষয়েই আরও এক ধাপ এগোলেন নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। পরিবেশ থেকে অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সরিয়ে সেই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে সমুদ্রের পানির মাধ্যমে কার্বন-ং-অক্সাইড ও সবুজ মিথানল উত্‍পাদন করে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা শুরু করলেন তাঁরা।

সমুদ্রের পানির মাধ্যমেই এবার পাওয়া যাবে জ্বালানি। মাটি খুঁড়ে জীবাশ্ম জ্বালানি খোঁজার দিন শেষ হয়ে আসছে। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছোট দ্বীপের সমান আয়তনের এক একটি ১০০ মিটারের ব্যাসার্ধের প্রায় ৭০টি প্যানেল নিয়ে একটি সৌর মিথানল দ্বীপ গড়ে তোলা হবে সমুদ্রের উপর, যা সূর্যের আলো দিয়ে বিশেষ কিছু প্রক্রিয়া ও সরঞ্জামের মাধ্যমে এই জ্বালানি উত্‍পাদন করবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই জ্বালানি উত্‍পাদনে যে পরিমাণ জায়গা, সৌরশক্তি ও পানির প্রয়োজন, তা একমাত্র সামুদ্রিক অঞ্চলেই পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে তাঁরা ইন্দোনেশিয়া, উত্তর অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের সামুদ্রিক অঞ্চলগুলি বেছে নিয়েছেন। প্যানেলগুলি একটা মেমব্রেনের উপর সূর্যের দিকে মুখ করে বসানো হবে, যা এই প্যানেলগুলিতে ২৪ মেগাওয়াটের শক্তি দেবে। সমুদ্রের পানিতে লবণ থাকায় প্রথমে সেই পানিটি লবণমুক্ত করা হবে। লবনমুক্ত করার পর হাইড্রোলিসিসের মাধ্যমে সেই পানির হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনকে আলাদা করা হবে।

এই প্রক্রিয়াটির জন্য একটি বিশেষ ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ট্যাঙ্কটির সঙ্গে একটি আন্ডারওয়াটার পাইপলাইন যুক্ত করা থাকবে যা বাষ্প সঞ্চালনের জন্য ব্যবহার করা হবে। আন্ডারওয়াটার পাইপলাইনটি তীরের স্টিম টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে যেটি ১ গিগাওয়াটের শক্তি উত্‍পাদনে সক্ষম হবে, যা গ্রিন মিথানল ও কার্বন-ডাই অক্সাইড উত্‍পাদনে সাহায্য করবে।

এ ছাড়াও এই সৌর মিথানল প্যানেলের একটি সংস্করণ মাটিতে করার পরিকল্পনায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লক্ষ লক্ষ সামুদ্রিক ভাসমান সৌর মিথানল দ্বীপগুলি সূর্যালোকের দ্বারা চালিত হয়ে কার্বন-ডাই অক্সাইড ও গ্রিন মিথানল বা জ্বালানি উত্‍পাদন করবে, যা ট্রেন, প্লেন ও জাহাজ চালাতে সাহায্য করবে। তবে আগামী দিনে এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে তা শুধুমাত্র সরঞ্জামের দামের উপর নয়, কতটা পরিমাণ শক্তি যানবাহনে যাবে তার উপর নির্ভর করছে।