সত্যিকারের এক যোদ্ধার মর্মাহত ক্রিকেট বিদায়

৪:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ১০, ২০১৯ খেলা

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- যুবরাজ সিংয়ের ক্যারিয়ারে উত্থান আর পতনের গল্পটা সমান। ক্যারিয়ারে যেমন উজ্জ্বল রঙিন সময় পার করেছেন, তেমনি দেখেছেন ঘুটঘুটে অন্ধকারচ্ছন্ন দিক আর ধূসর সময়ও।

একটা সময় মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবনটাই প্রায় হারাতে বসেছিলেন। জীবনযুদ্ধে কেবল জয়ীই হননি, আবার ফিরে এসেছেন ক্রিকেটের মাঠে, বুক চিতিয়ে লড়েছেন দেশের হয়ে, জিতিয়েছেনও।

দেশের হয়ে যুবরাজের অর্জন কম নয়। ২০০৭ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সেবার ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন যুবরাজ সিং। সেই জয়ের চার বছর পর ২৮ বছরের আক্ষেপ দূর করে ওয়ানডে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। এবারও ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট একজনই, যুবরাজ সিং।

এছাড়া তিনি ছিলেন ২০০২ সালে ভারতের প্রথমবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী দলেও। ভারতকে দুই ভিন্ন ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানানোর পাশাপাশি তিনটি বড় শিরোপা জয়ী যুবরাজ সিং আজ বিদায় জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে।

জীবন সংগ্রামের লড়াইটা করতে করতে বয়স ৩৭ বছর হয়েছে। ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলা অনেকে দেখেছিলেন আরো অনেক আগেই, হয়তো তিনি নিজেও দেখেছিলেন। কিন্তু দেশের হয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপে শেষবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। বয়সের ভারে পারফরম্যান্সের ধার কমে যাওয়ায় তা আর পারেননি। বিশ্বকাপ চলাকালীনই নিলেন অবসর।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে আবেগঘন বক্তব্যে যুবরাজ বলেন, ‘ক্রিকেটের সাথে থেকে এই কয়েক বছরে অনেক ভালো বন্ধু পেয়েছি। আবার এমন অনেকেই ছিলেন যারা হয়তো খুব একটা বন্ধুভাবাপন্ন হননি আমার প্রতি। তবে আমি কখনো নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাইনি। সব সময় নিজের ওপর বিশ্বাস রাখবেন। এই খেলাটি আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে লড়াই করতে হয়, কিভাবে ঝরে পড়তে হয়, কিভাবে আবার গায়ের ধুলে ঝেড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়, এগিয়ে যেতে হয়। আমার যাত্রাটা ছিল দারুণ, দেখা হবে আপনাদের সাথে; অন্য কোনো ভূমিকায়।’

২০১৭ সালের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর সুযোগ মেলেনি যুবরাজের। তবুও প্রিয় খেলোয়াড়ের এ বিদায় সহজে মেনে নিতে পারেননি ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাই আবেগাপ্লুত বাণী দিচ্ছেন অনেক যুবরাজ ভক্ত।

টুইটারে এক ভক্ত লিখেছেন, ‘একটি যুগের সমাপ্তি। যে মানুষটার জন্য আমি ক্রিকেট দেখা শুরু করেছিলাম তিনি আজ অবসর নিলেন। বিশ্বাস করুন যুবরাজ, আপনি আজীবন আমার প্রিয় ব্যাটসম্যান হয়ে থাকবেন। আপনি একজন কিংবদন্তি। কেউ আপনার জায়গা নিতে পারবে না।’

২০১১ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে ৩৬২ রান ও ১৫ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন যুবরাজ। শরীরে ক্যান্সারের মতো মরণ ব্যাধি লুকিয়ে রেখে ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, ওই বিশ্বকাপ চলাকালে লুকিয়ে বাথরুমে গিয়ে রক্তবমি করতেন যুবরাজ। ব্যাপারটা জানাজানি হলে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়তে পারেন, এই শঙ্কায় তখন ক্যান্সারের কথা গোপন রেখেছিলেন তিনি। দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েই নিজের চিকিৎসা করিয়েছিলেন।

সাবেক সব ক্রিকেটাররাও যুবরাজের বিদায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মোহাম্মদ কাইফ টুইটারে লিখেছেন, ‘ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার, কঠিন সব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যে নিজের অসাধারণ এক ক্যারিয়ার গড়ে নিয়েছে তার নাম যুবরাজ। খারাপ সময়কে পেছনে ফেলে সে সব সময় বিজয়ী হয়ে ফিরেছে। আমরা সবাই তাকে নিয়ে গর্বিত। দেশের জন্য সে যা করেছে, তাতে সে নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ব করতেই পারে।’

৪০টি টেস্টের পাশাপাশি যুবরাজ সিং ওয়ানডে খেলেছেন ৩০৪টি। ওয়ানডেতে রয়েছে ৮ হাজার ৭০১ রান। ১৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ৫২টি হাফসেঞ্চুরি। আবার ৫৮টি টি-টোয়েন্টিতে সংগ্রহ ১ হাজার ১৭৭ রান। তাতে রয়েছে ৮টি হাফসেঞ্চুরি। এবারের আইপিএলে শিরোপা জয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে সুযোগ পেলেও খেলতে পেরেছেন মাত্র ৪ ম্যাচে।