• আজ ৩১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মামা-ভাগনীসহ ঝরে গেল ৩ জনের প্রাণ

১২:৩১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

আশিক বিন রহিম, চাঁদপুর প্রতিনিধি- চাঁদপুরে পৃথক সড়ক দূর্ধটনায় মামা-ভাগনীসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুন) সকালে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের সেনগাঁও বটতলা ও শাহমাহমুদপুর মান্দারী নামকস্থানে পৃথক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে সেনগাঁও নামকস্থানে বাস-সিএনজি স্কুটারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত মামা-ভাগনী হলেন ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরান হোসেন (৩৪) ও ভাগ্নি ফাতেমা আক্তার আনিকা (১০)। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩ জন।

অপর ঘটনায় সকাল ১০টায় শাহমাহমুদপুর মান্দারী নামকস্থানে পিকাপ ভ্যানের চাপায় হাজীগঞ্জ এলাকার ঝর্ণা বেগম নামে এক পথচারী নিহত হয়।

ঘটনার সত্যতা শিকার করেছেন চাঁদপুর মডেল থানার ওমি নাসিম উদ্দিন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ থেকে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটের উদ্দেশ্যে সিএনজি স্কুটার চাঁদপুর-থ-১১-২৪০৯ পাঁচ জন যাত্রী নিয়ে আসছিল। দুর্ঘটনার স্থানে আসলে চাঁদপুর থেকে ঢাকা অভিমুখী পদ্মা এক্সক্লুসিভ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ঢাকা গাজীপুর এলাকার সোসাল ইসলামী ব্যাংকের হিসাব রক্ষক হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল গ্রামেরসর্দার বাড়ির তাজুল ইসলাম সর্দারের ছেলের ইমরান হোসেন (৩৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান। ভাগ্নি ফাতেমা আক্তার আনিকা (১০) গুরুতর আহত অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় প্রেরণ করে। ঢাকায় নেওয়ার পথে মতলবে যাওয়ার পর আনিকা মারা যায়।

অপর আহত ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩নং সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের শীল বাড়ির ডাঃ ভাষাণ চন্দ্র শীলের ছেলে রতন চন্দ্র শীল (৩০) কে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান দূর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে ছুটে আসেন। হাসপাতালে উপস্থিত থেকে তিনি আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করেন।

তিনি সাংবাদিকদেরকে জানান, ঈদ পরবর্তী সময়ে চাঁদপুরে এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আমরা আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য কাজ করছি। তিনি চাঁদপুর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের লাশ বিনা ময়না তদন্ত ছাড়াই মানবিকতার বহিঃ প্রকাশ ঘটিয়ে তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন। শিশু আনিকার লাশটিও ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ মনির জানান, দুর্ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাদের কাছে খবর আসলে আমরা ৩টি ইউনিট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সিএনজি স্কুটারে চাপা পড়া অবস্থায় নিহত ইমরান হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আমাদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ তৌহিদুল ইসলাম খান জানান, শিশু আনিকা ও রতনের অবস্থা আশংকাজনক। তাই আমরা এ দু’জনকে ঢাকা প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছি। তবে শিশু আনিকার অবস্থা আশংকাজনক ছিল। অপর আহত জুয়েল (৩৫) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছিলেন।

চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় এনেছি। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে নিহতের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়া তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।

দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া সিএনজি স্কুটারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘাতক পদ্মা বাসটি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সিএনজি স্কুটার চালক দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষের সাথে মিশে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।