দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির সময় দুই কিশোরী উদ্ধার

১:৩১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টার- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পাচারের সময় পর পর দুই দিনে পাচারের হাত থেকে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আজগর আলী নামে এক ব্যাক্তিকে এক বছরের সাজা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, তাদেরকে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। দরিদ্র পরিবারের এ দুই কিশোরীর একজনকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে অপরজনকে ঢাকার মিরপুর-২ নম্বর এলাকা হতে আনা হয়েছিল জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিনগত রাত ৯টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর সামনে রেল স্টেশন এলাকায় ১১/১২ বছর বয়সী একটি মেয়েকে অনেকক্ষণ সময় ধরে বসে থাকতে দেখে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষার্থী শিশুটির সাথে কথা বললে সে জানায়, আমরা ঢাকার মিরপুর-২ এলাকায় ভাড়ায় থাকি। বাবা রিক্সা চালক। তার চাচাতো ভাই স্বপন তাকে চাচা বাড়ীতে বেড়াতে নেয়ার কথা বলে এখানে নিয়ে আসে।

কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে সে আমাকে এখানে বসিয়ে রেখে অন্যত্র গেছে। এ অবস্থায় ওই স্কুল ছাত্রের সন্দেহ হলে সে তার পরিচিত এক এনজিও কর্মীকে খবর দেয়। তারা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে রাখে এবং রবিবার গোয়ালন্দ ঘাট জিআরপি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

স্থানীয়দের ধারণা শিশুটির চাচাতো ভাই স্বপন তাকে যৌনপল্লীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে এবং স্টেশনে বসিয়ে রেখে দর-দাম মেটাতে যৌনপল্লীর ভিতর নারী ব্যবসায়ীদের কাছে যায়।

গোয়ালন্দ ঘাট জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সেলিম মিয়া জানান, শিশুটি তার পরিচয় ঠিকমত বলতে না পারলেও তার বাবার মুঠোফোন নাম্বারটি বলতে পারে।

এদিকে সোমবার সকালে দৌলতদিয়া হতে ৬ষ্ট শ্রেণিতে পড়ুয়া অপর এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। সে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দরিদ্র কৃষকের মেয়ে।

থানায় আলাপকালে সে জানায়, চুয়াডাঙ্গার দামূড়হুদা উপজেলার হুতুপাড়া গ্রামের আজমত আলীর ছেলে আজগর আলী নামের ৩ সন্তানের জনক তাকে ঢাকায় চাকরী দেয়া ও বিয়ে করার কথা বলে বাসযোগে রবিবার বিকেলে দৌলতদিয়া নিয়ে আসে। সেখানে নেমে এক হোটেলে খাবার খাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে নানা কথাবার্তার মাঝে তাদের দুজনের এলোমেলো কথায় গড়মিল পেয়ে আটক করে স্থানীয় একটি এনজিও অফিসে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার ও আজগর আলীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল-মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটককৃত আজগর আলীকে এক বছরের সাজা প্রদানের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে। অপরদিকে উদ্ধারকৃত কিশোরীদের নিকট থেকে যোগাযোগের নাম্বার নিয়ে অভিভাবকদের ডেকে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।