• আজ ৩১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে জরাজীর্ণ চাতালে সরকারি চাল ক্রয়ের বরাদ্দ

১:১০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জরাজীর্ণ চাতালে সরকারি চাল ক্রয়ের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ সব মিল মালিকরা তাদের চাতাল সংস্কার না করেই বরাদ্দের চাল দেবেন খাদ্য বিভাগে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ৩৩ জন মিলারের নিকট ৬৪৫.৯০০ মেট্রিক টন ও ১ জন অটো মিলার হতে ৭৯৪.১০০ মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য দিতে প্রতিবছর সরকারিভাবে ধান, সিদ্ধ এবং আতপ চাল ক্রয় করে সরকার। চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল হতে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত ধান ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা এবং আতপ চাল ৩৫ টাকা দরে ক্রয় করছে।

সে অনুয়ায়ী বিধি মোতাবেক বৈদ্যুতিক সংযোগসহ সচল মিল মালিককে চাল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সরকারের সেই বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার জরাজীর্ণ চাতাল মালিকদের বরাদ্দ দিয়েছে উপজেলা খাদ্য বিভাগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মের্সাস আপেল চাল কলে বিদ্যুত সংযোগ তো দুরের কথা এখন পর্যন্ত চাতালের নির্মান কাজও চাতাল মালিক শেষ করতে পারেনি। অথচ বরাদ্দ পেয়েছে ২৪.২০৫ মেট্রিক টন। এরকম মের্সাস প্রিন্স চাল কল এবং মের্সাস হাবীব চাল কলসহ অনেকে নেই কোন ধান শুকানোর চাতাল ও বয়লার, চিমনি এবং জরাজীর্ণ ও অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে হাউজ সমূহ।

নির্মাণাধীন এ সব চাতালের বয়লারসহ চিমনি ভাঙ্গা এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় মাঠ পড়ে আছে। কোন কোন চাতালে নেই কোন বিদ্যুত সংযোগ। খাদ্য বিভাগ ও গুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মালিকরা লাভবান হলেও সরকারের দেয়া ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক কৃষক। খাদ্য বিভাগের এমন গাফলতির কারণে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

ফুলবাড়ী উপজেলার বিদ্যাবাগিস গ্রামের কৃষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার বলেন, কিভাবে যে বন্ধ ও জরাজীর্ণ চাতালের মালিকরা চালের বরাদ্দ পান,আমরা মিলারের কাছে ধান নিয়ে গেলেও তারা ক্রয় করছেন না। অনেকে নেবার আগ্রহ দেখালেও ৪০০/৪৫০টাকা ধানের মণ বলায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই ধান বিক্রি করছি। এতে করে লাভ তো দূরের কথা কামলার মজুরি উঠছে না। ফলে লোকসানের ভারটাই বেশি। সরকারের নিধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই কৃষক। একই কথা জানালেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক শংকর চন্দ্র পালসহ আরও অনেকেই।

আপেল চাল কলের মালিক হাবিবুর রহমান বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে জানান, আমার লাইসেন্স রয়েছে বলেই বরাদ্দ পেয়েছি এবং বরাদ্দ অনুযায়ী চাল দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, চাতালের অবস্থা যেমনই হোক না কেন সরকারের নির্ধারিত সময়ে বরাদ্দের চাল দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চাতাল মালিক বলেন, ফুড ইন্সপেক্টরকে প্রতি চাতাল ৭০০টাকা করে দিয়েছি। আর চাল দিচ্ছি অনেকেই খোলা বাজার থেকে কিনে। আবার অনেকে ভিজিডি চাল ক্রয় করে সেই চাল দেবেন। এতে করে সরকারের দেয়া মূল্য অনুযায়ী মিলারদের ৮/১০টাকা করে কেজিতে লাভ হবে।

উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি জানি না। আপনার যা জানার আছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও উপজেলার চাল কল মালিক সমিতির নেতাদের সংঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলার চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন জানান, আমি নিজেও জানিনা অসচল চাতাল মালিকরা কিভাবে বরাদ্দ পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন জানান, জরাজীর্ণ ও অসচল চাল কল মালিকরা কিভাবে চালের বরাদ্দ পায় বিষয়টি জানা নেই। তিনি আরও বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অস্বচল চাতাল মালিকরা বরাদ্দ পেলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে।