সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে কক্সবাজার কারাগার

২:৫৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ ফিচার

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার প্রতিনিধি- কক্সবাজার জেলা কারাগারে কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে দিয়েছে কারা অভ্যন্তরের ভেতরে বাহিরের সামগ্রিক চিত্র। কারা অভ্যন্তরের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে বেজায় খুশি কারা বন্দিরা।

জেল সুপারের সুদক্ষ পরিচালনায় কক্সবাজার জেলা কারাগার এখন বাংলাদেশের মডেল কারাগার হিসেবে বাস্তবিক দৃষ্টান্ত। এমনটাই জানালেন কারাবন্ধিরা। তারা বলছেন, জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দের যোগ্য নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা কারাগার বাংলাদেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভেতরে বাহিরে কর্মরতরা একাগ্রচিত্তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কারাগারের স্বার্থ রক্ষা করে জনসাধারণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিরালসভাবে।

কারা সুত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ২৭ মে কক্সবাজার জেলা কারাগারের সূচনা হয়েছিলো মাত্র ৫শ’ ৩০ জন বন্দির ধারণ ক্ষমতা নিয়ে। বর্তমানে এ কারাগারে মোট কারা বন্ধি রয়েছে ৪ হাজার ৩শ’ ৫৩ জন। যা ধারণ ক্ষমতার ৮গুণেরও বেশি। কারাভ্যন্তরের পরিমাণ ৪ দশমিক ৭৭ একর। সাধারণত কারাগারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ধারণ ক্ষমতার প্রেক্ষাপট অনুসারে, ৪৯৬ জন পুরুষ ও ৩৪ জন নারী বন্দি থাকার কথা। কিন্তু সে তুলনায় কারা কর্তৃপক্ষ ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৮ গুণ বন্দিকে সেবা দিয়ে আসছে নিরালসভাবে।

কারা পরিদর্শক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, জেল সুপারের নেতৃতে কারাগারে শান্তি-শৃংখলা সৃষ্টি, কারা মনিটরিং, অসুস্থ বন্দিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক তদারকি, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, উন্নতমানের খাবার পরিবেশণ, পয়োঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সর্বোপরি মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ পৌঁছে দিতে কাজ করছেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে। সততায় অবিচল থেকে মডেল কারাগারে রুপান্তর করতে তিনি সফলতার নিশ্বাস ফেলছেন।

সদ্য কারামুক্ত নরসিংদীর বাকের জানান, জিআর ২৪৮/১৮ মূলে কারান্তরিন ছিলাম। বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার। কারাগারে প্রত্যেক বন্দিদের সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে কারা কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো বলেন, আমি দেখা মতে কোন ইয়াবা ব্যবসায়ী বাড়তি কোন সুযোগ-সুবিধা তথা আরাম আয়াশে থাকতে না পারে সেজন্য জেল সুপার সর্বদা সজাগ রয়েছেন। প্রতিদিন তিনি কারাগারের সকল ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং বন্দি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কারণে কারো অসুবিধা হচ্ছে না কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন। শুধু তাই নয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যেন অনৈতিক কর্মকা- করতে না পারে সেজন্য কারারক্ষীদের সচেতন হওয়ার নির্দেশ দেন।

কারা মুক্ত আরেক ব্যক্তি হেলাল জানান, কারা বিধি মোতাবেক সকল বন্দিদের খাবার পরিবেশন করা হয়। বাইরে থেকে খাবার আনা নেওয়া করার কোন সুযোগ নেই। প্রত্যেক বন্দি কারা বিধি মোতাবেক খাবার গ্রহণ করে। সে মোতাবেক ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ও খাবার দাবার খেয়ে থাকেন।

কারা অভ্যন্তরে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, কারা রক্ষীরা যাতে কোন অনিয়মে না জড়ায় সেজন্য মাসিক দরবার ও রুল কলে তাদেরকে সচেতন করা হয়।

জেলার রীতেশ চাকমা জানান, আমি জেলার হিসেবে যোগদান করেছি প্রায় ৫ মাস যাবত। যোগদানের পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে কারা বন্দিদের প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারাগারে যাতে কোন অপ্রীতিকর তথা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এমন কার্যক্রম যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।

জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান। কারাগারে বিগত ৩ বছর যাবত আমি কর্মরত আছি। কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমার সার্বিক প্রচেষ্টায় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কারাগারের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছি।

“কারাগারে মাদকের প্রবেশ যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি, ফলশ্রুতিতে জেলা কারাগারে প্রায় ১০ বারের চেয়ে বেশী ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। যার পরিমাণ ১০ হাজারের চেয়েও বেশী।”

তিনি আরো বলেন, কারাভ্যন্তরে নতুন ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ২০০ জনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১২ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটি জুনের শেষের দিকে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে, বন্দি পুনর্বাসনের পাশাপাশি একটু স্বস্তি ও শান্তি পেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।