গাজীপুরে প্রিপেইড মিটার বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

১১:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ ঢাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর:  গাজীপুরে পল্লীবিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা ও বিড়ম্বনা নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

নাগরিক ফোরামের দাবি হলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রিপেইড মিটার তুলে নেওয়া, প্রিপেইড মিটার চলমান থাকা অবস্থায় যত টাকা গ্রাহকদের বেশী খরচ হয়েছে তা ফেরত দেওয়া, পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকরাই যদি সমিতির মালিক হয় তবে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়ার আগে গ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় করা, আগামীতে পবিস কোন সেবা চালু করার পূর্বে অবশ্যই গ্রাহকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া।

এছাড়া মিটার ভাড়া আগের চেয়ে চার গুন, বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ থাকলেও মিটার থেকে টাকা কাটা যায়, প্রিপেইড মিটার বিদ্যুৎ ব্যয় ডিজিটাল মিটারের দ্বিগুণ, পর্যাপ্ত ভেন্ডিং বা রিচার্জ স্টেশন নেই, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড কিনতে হয়, একাধিকবার কার্ড ক্রয়ের ঝামেলা, হঠাৎ মিটার লক হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, পল্লীবিদ্যুতের লাইনে পল্লীবিদ্যুতের লোকছাড়া কাজ করা নিষিদ্ধ বিধায় তাদের ডেকেও তাৎক্ষণিক পাওয়া সম্ভব না, পূর্বে ছাপানো বিলিং সিস্টেম ছিল কিন্তু বর্তমানে ফ্ল্যাট রেটে ইচ্ছে মতো টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, এমার্জেন্সি ব্যালেন্সের জন্য অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, প্রিপেইড মিটার বিলের সাথে পূর্বে স্থাপিত সেন্ট্রাল মিটারেরও চার্জ কাটা যায়, প্রতি রিচার্জেই একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা কেটে নেওয়া হয়, মেয়াদ কতদিন- কত ইউনিট খরচ হলো ডিসপ্লেতে এরকম কোন তথ্য নেই। এরকম অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে পল্লিবিদ্যুতের এই প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে।

পূর্বে প্রতি মিটারে প্রতি মাসে ১০ টাকা ভাড়া ছিল। এখন এই ভাড়া চারগুন বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। অন্য চার্জ নামেও চার্জ যুক্ত হয়েছে। কোনো রকম বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি না পেলেও প্রি পেইড সিস্টেমে বিল বেড়েছে হিসাব ছাড়া। গ্রাহকরা জানান, তারা পূর্বের ডিজিটাল মিটারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

গাজীপুর নাগরিক ফোরামের আহবায়ক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন জানান, গাজীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন গ্রাহকদের সম্প্রতি প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম ধাপে অনেকেই প্রিপেইড মিটার পেয়েছে। পূর্বে স্থাপিত ডিজিটাল মিটার নিয়েই যেখানে অভিযোগের অন্ত ছিলনা সেই অভিযোগের সমাধান না করে কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম চলছে। বর্তমান প্রিপেইড মিটার পূর্বের মিটারের প্রায় আড়াই গুণ বেশী বিল নেওয়া হচ্ছে, কারো আগের বিল যদি ১১০০ টাকা হতো এখন প্রিপেইড মিটারে বিল আসছে ২৫০০ টাকা।

জেলা প্রশাসক অভিভাবক হিসেবে গ্রাহকদের প্রাণের আকুতি এ প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত বিড়ম্বনার আশু সমাধানের জন্য স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারক লিপি প্রদানের সময় গাজীপুর নাগরিক ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক মো: মনির হোসেন, সদস্য সচিব এ এন এম মুনীর হোসাইন মোল্লাসহ প্রায় শতাধিক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

Loading...