জেলে যেতেও রাজি মমতা!

১২:১২ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছেই। সোমবার রাতে হিংসার বলি হলেন ৩ জন। অন্যদিকে রোগী মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগে এক জুনিয়র ডাক্তারকে মারধরের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সব সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

এদিকে কলকাতার বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেঙে যাওয়া বিদ্যাসাগরের মূর্তি মঙ্গলবার দুপুরে হেয়ার স্কুল প্রাঙ্গণে প্রতিস্থাপন করা হয়। সেখানে অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আমি দাঙ্গাবাজদের ভালোবাসি না। তাতে যদি আমাকে জেলে যেতে হয়, কী যায় আসে? বাংলাকে গুজরাট বানাতে দেবো না।’

অন্যদিকে সন্দেশখালির সংঘর্ষের ঘটনায় এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি করেছে বিজেপি।

মমতা বলেন, আমরা টাকা-পয়সা দিয়ে কিছু করি না। হৃদয় দিয়ে কাজ করি। বিদ্যাসাগরের চারটি মূর্তি গড়া হচ্ছে, তাও হৃদয় দিয়ে। একটা মূর্তি ভেঙে তারা কি আমাদের হৃদয়ের চেতনা ভাঙতে চাইছে? সংস্কৃতি ভুলিয়ে দিতে চায়? ভাষা রুদ্ধ করে দিতে চায়? কিন্তু মূর্তি ভেঙে বর্ণপরিচয় মোছা যায় না।

মূর্তি ভাঙার জন্য ফের বিজেপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, তৃণমূলের কেউ একাজ করলে তাকে ঠাস ঠাস চড় মারতাম। তিনি আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গ গুজরাট নয়। পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে। দাঙ্গাবাজদের রুখে দিতে হবে। বাংলার অপমান দেখলে তা জীবন দিয়ে রুখব।

মমতা ঘোষণা দেন, মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের বসতবাড়ি এবং সেখানকার ভগবতী বিদ্যালয়টিকে হেরিটেজের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

মমতা বলেন, ‘এখন যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ) তারই মিছিল ছিল সে দিন। কেন তিনি সেদিন বিশৃঙ্খলা করলেন? কেন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন? সব তথ্যপ্রমাণ আছে আমাদের কাছে। আপনারাই করেছেন সব।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারকালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর রোড শো চলাকালীন গোলমালের সময় বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি ভাঙা পড়ে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরাই এটি করেছে।