জালিয়াতি, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রাণের ৩০ কনটেইনার পণ্য জব্দ

১২:৩০ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- চট্টগ্রাম বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্লাস্টিক দানার ঘোষণা দিয়ে সিমেন্ট আমদানি করায় প্রাণ গ্রুপের ৩০টি কনটেইনারের খালাস স্থগিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

প্লাস্টিকের দানা ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরবের একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সিমেন্ট আমদানির মাধ্যমে প্রাণ গ্রুপ প্রায় তিন কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ ডেইরি লিমিটেড আরব আমিরাত থেকে ৩০ কনটেইনারে করে ৫১০ টন প্লাস্টিক দানা আমদানির ঘোষণা দেয়। তবে এসব পণ্যের উৎস দেশ সৌদি আরব। নথিতে পণ্যের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ডলার। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে শুল্ক পরিশোধ করে ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড়করণের আগে কাস্টমসের আনস্টাফিং বিভাগের তদারকিতে পণ্যের পরীক্ষণে দেখা যায়, সব কনটেইনারেই মূলত আমদানি করা হয়েছে খুবই উন্নতমানের সিমেন্ট। এতে শুল্কের ব্যবধান প্রায় ৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ডু জানান, ‘ঈদের সরকারি বন্ধের সময় ৬ জুন রাতে তারা কনটেইনার খালাসের চেষ্টা করে। এ সময় আমরা গিয়ে দুটি কনটেইনার খুলে সিমেন্টের বস্তা দেখতে পাই। আমরা ৩০টি কনটেইনার লক করে সেগুলোর খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিই। ঈদের ছুটি শেষে সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিনে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করি।’

কাস্টমসের কর্মকর্তা জানান, ৩০টি কনটেইনার খুলে দেখা যায়, চালানটিতে রয়েছে সৌদিআরবের জেবেল আলী ব্র্যান্ডের সিমেন্টের বস্তা। প্রতিটি বস্তায় আছে ৫০ কেজি সিমেন্ট। একটি কনটেইনারে এসেছে ৩৪০টি করে বস্তা। ৩০টি কনটেইনারে ১০ হাজার ২৫০টি বস্তায় মোট সিমেন্ট এসেছে ৫১০ মেট্রিকটন।

কাস্টমসের এ কর্মকর্তা জানান, প্লাস্টিক দানার শুল্ককর ৩২ শতাংশ। আর সিমেন্টের শুল্ককর ৯১ শতাংশ। আমদানিকারক প্লাস্টিকের দানা হিসেবে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা শুল্ক দিয়েছিল। সিমেন্টের হিসেবে শুল্ক আসে প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এখন এ অনিয়মের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।