নুসরাত ঘটনায় সু-কৌশলে বেঁচে যাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা কামাল

৮:০৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯ চট্টগ্রাম

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি:  ফেনীর সোনাগাজীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির দায় থেকে সু-কৌশলে বেঁচে যাচ্ছেন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা ও নুসরাতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নুসরাত হত্যায় প্রথম দফায় করা মামলাটি এত দায়সারা করে দায়ের করার সঙ্গে  সোনাগাজি মডেল থানার তদন্ত ওসি কামাল হোসেনের সরাসরি হাত ছিল। তাঁর যোগ সাজসে এই মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজকে  আসামী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মামলার বাদী এজাহারে অধ্যক্ষ সহ চার আাসমীর নাম দিলে ওই মামলার তদন্তকারী হিসাবে এজাহারে করো নামই উল্লেখ করেনি ওসি(তদন্ত ) কামাল ।

নুসরাতের বিপক্ষে যায়- এমন সব যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করেন ওই এজাহারে এসপি জাহাঙ্গীরের পরমর্শে  ওসি(তদন্ত )কামাল ।

পরবর্তিতে  গণমাধ্যম ও নুসরাতের পরিবারের চাপে মামলার এজাহার পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় পুলিশ প্রশাসন। যদিও পিবিআই আসল সত্য তুলে আনার কারণে নিহতের পরিবার এবং সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসন ও তদন্তের ওপর আস্থা হারায়নি। এখন সেই তদন্ত  ওসি কামাল কৌশলে নুসরাত হত্যার দায় থেকে বেঁচে যাচ্ছেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কর্মকর্তার অপরাধ ও অবহেলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, নুসরাত জাহান রাফী হত্যার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠে। ফলে পুলিশ সদর দফতর থেকে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটি সোনাগাজীতে ৩ দিন অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ, মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেন। তদন্ত কমিটি ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন গত ৩০ এপ্রিল রাতে পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট শাখায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

এতে পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফ ও এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহাম্মদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ফলে থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহাম্মদকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। পরে পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়।কিন্তু সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন শাস্তির আওতায় না আসায় তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানান, ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় থানায় নুসরাতের জবানবন্দি ভিডিও রেকর্ডিং করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে ওসি মোয়াজ্জেমের অগোচরে ওসি তদন্ত কামাল হোসেনের সহযোগিতায় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের হলেও সুকৌশলে পুলিশ কর্মকর্তা কামাল হোসেন বেঁচে যান। এ ছাড়া নুসরাত হত্যা মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ থাকলেও তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম উঠে না আসায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদিকে কামাল হোসেনও নুসরাত হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছে। যা গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশের অনেকেই অবগত আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জানিয়েছেন, ফেনী মডেল থানা, শহর পুলিশ ফাঁড়ি ও সোনাগাজী থানায় দায়িত্ব পালনসহ ফেনীতে ১০-১২ বছর ধরে অবস্থান করে আসছেন পুলিশ কর্মকর্তা কামাল হোসেন। দীর্ঘদিন ফেনীতে অবস্থান করার সুযোগ নিয়ে নানা অপকর্মে জড়িত থাকলেও উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া নুসরাত হত্যায় কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ থাকায় রক্ষা পেতে স্থানীয় যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের দিয়ে তার নামে সুনাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এই কর্মকর্তা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।