পালিয়ে থাকায় শাস্তি বাড়তে পারে ওসি মোয়াজ্জেমের

১২:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরেও ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে হত্যার ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকার জন্যে সমালোচিত ফেনীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ শে মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর সেই পরোয়ানার নোটিস পাওয়া নিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের সাবেক কর্মস্থল ফেনী এবং বর্তমান কর্মস্থল রংপুর দুই জেলার পুলিশের মধ্যে চাপান-উতর চলে। এক পর্যায়ে বর্তমান কর্মস্থল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাবার কথা স্বীকার করলেও, ইতিমধ্যে মোয়াজ্জেমকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পালিয়ে বাঁচতে পারবেন না ওসি মোয়াজ্জেম। বরং আত্মসমর্পণ করে বিচারকারে সহায়তা না করে পালিয়ে বেড়ানোয় বিভাগীয় তদন্তে শাস্তির পরিমাণ বাড়তে পারে মোয়াজ্জেম হোসেনের।

গ্রেফতারি পরোয়ানার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তা হয়ে ওসি মোয়াজ্জেম কি পালিয়ে বাঁচতে পারবেন?— জানতে চাইলে বুধবার (১২ জুন) পুলিশ সদর দফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, পালিয়ে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। সবার জন্যই আইন সমান, সে যেই হোক না কেন। সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম পুলিশের একজন পরিদর্শক। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে বিচারে সহযোগিতা করতে পারতেন। সেখানে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে কথা বলার সুযোগ পেতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। ফলে ভিন্ন কিছুও হতে পারে। তাছাড়া পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে যে বিভাগীয় তদন্ত চলছে, সেখানেও তার শাস্তির পরিমাণ বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরে গত ৯ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়। তবে সেখানেও এখন পর্যন্ত যোগ দেননি মোয়াজ্জেম।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকতে পারেন কি না— জানতে চাইলে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, অনুমতি ছাড়া কেউই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে পারে না। সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত নেই জানিয়ে পুলিশ সদর দফতরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত অব্যাহত আছে। প্রতিবেদনের আলোকে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, পুলিশ সদর দফতর ব্যবস্থা নেবে।

কর্মক্ষেত্রে যোগ না দেওয়া মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ১৬ দিনেও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। এরই মধ্যে ফেনী জেলা পুলিশের একটি দল ঢাকায় তার সন্ধানে একাধিক স্থানে অভিযান চালালেও তাকে ধরতে পারেনি।

ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) শফিকুল আহমেদ ভূঈয়া বলেন, সোনাগাজী পুলিশের একটি দল মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করতে গত দুই দিন থেকে ঢাকায় অবস্থান করছে। বুধবারও তিন দফায় অভিযান চালানো হয়েছে, কিন্তু তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত টিম ঢাকায় অবস্থান করবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধূলো দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেন দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন কি না— সে প্রশ্নও উঠেছে। যদিও বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোয়াজ্জেম দেশেই আছে। তার পালানোর সব পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। তাকে যেকোনো সময় গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এর দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। থানায় নুসরাতকে হয়রানির এ ঘটনায় ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদি হয়ে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আদালত মামলাটির তদন্ত ভার দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পরে গত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরে ২৭ মে পিবিআইয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা জারির দুইদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।